বাসদের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট: সকল জনমতকে উপেক্ষা করে ভোট ডাকাতির অবৈধ সংসদে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার নীল নকশা হিসেবে নির্বাচন কমিশন গঠনের আইন পাশের প্রতিবাদে এবং গণবিরোধী সকল কালো আইন বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের উদ্যোগে আজ ২৮ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাসদ এর প্রথম কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক কমরেড নিখিল দাস, বাসদ বগুড়া জেলা আহ্বায়ক কমরেড সাইফুল ইসলাম পল্টু, বাসদ কেন্দ্রীয় বর্ধিত পাঠচক্র সদস্য কমরেড আহসান হাবিব বুলবুল। সমাবেশ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় বর্ধিত পাঠচক্র সদস্য কমরেড খালেকুজ্জামান লিপন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব থেকে হাইকোট কদম ফোয়ার ঘুরে, তোপাখান রোড, পুরানা পল্টন, বিজয়নগর, সেগুনবাগিচা হাই স্কুলের সামনে এসে শেষ হয়।
সভাপতির বক্তব্যবে কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, সকল বিরোধী রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও অংশীজনের মতামতকে উপেক্ষা করে ভোটডাকাতির মাধ্যমে দিনের ভোট রাতে করার অবৈধ সরকার ‘নির্বাচন কমিশন গঠন আইন’ অবৈধ সংসদে কণ্ঠভোটে গতকাল পাশ করে কর্তৃত্ববাদী স্বৈরশাসনকে পাকাপোক্ত করার আয়োজন সম্পন্ন করলো।
সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, আইনী ভিত্তির উপর নির্বাচন কমিশন গঠনের ঘোষণা সংবিধানে থাকলেও স্বাধীনতার ৫০ বছরেও শাসক শ্রেণি নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহে পদাধিকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন আইন প্রণয়ন না করে সংবিধান লংঘন করে দেশ পরিচালনা করে স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণআকাঙ্খা গণতন্ত্রকে গণপ্রহসনে এবং ভোটাধিকারকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। আগামী নির্বাচনী ফলাফল নিশ্চিত করতেই সর্বস্তরের গণতন্ত্রমনা জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে অত্যন্ত সংগোপনে, রকেট গতিতে ভোট ডাকাতির অবৈধ সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নির্বাচন কমিশন গঠনের আইন প্রণয়ন করে বাংগালী জাতির ইতিহাসে আরেকটি কালো অধ্যায় রচিত করলো বর্তমান ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার।
নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধানের ২য় সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মৌলিক অধিকার পরিপন্থি কালো আইন প্রণয়নের সিংহদ্বার উন্মোচন করে। যার ফলে মৌলিক অধিকার হরণকারী নিবর্তনমূলক কালো আইন ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন’ প্রণয়ন করতে পেরেছিল। যা পরবর্তীতে অপরাপর বুর্জোয়া শাসক দলগুলোও কাজে লাগিয়েছে এবং পুঁজিবাদী ভোগবাদী স্বার্থ রক্ষার্থে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে বিরোধী মত দমনের আইন প্রণয়ন করেছে। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের ইচ্ছা ও আকাঙ্খা অনুযায়ী নির্বাচনী ফল নিশ্চিত করনের আইন গতকাল সংসদে কণ্ঠভোটে পাশ করলো। এটা ইতিহাসে কলংকজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, এই আওয়মী লীগই ’৭৩ সালের মার্চে সংসদ নির্বাচনের পর স্বাভাবিক নিয়মে ৫ বছর অর্থাৎ ’৭৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার কথা থাকলেও ’৭৫ সালে ৪র্থ সংশোধনীতে বাকশাল কায়েমের পর বলা হয়েছিল এই সংশোধনী পাশের পরবর্তী আরও ৫ বছর সরকার ক্ষমতায় থাকবে। আওয়ামী লীগ ধনিক শ্রেণির লুণ্ঠনের স্বার্থ রক্ষার্থে কর্তৃত্ববাদী শাসন জারি রাখতে আজীবন ক্ষমতায় থাকার আইন পাশ কররেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তাই বর্তমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের দুঃশাসন উচ্ছেদ ও সকল প্রকার কালো আইন বাতিল করতে বাম-গণতান্ত্রিক শক্তির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। নির্বাচন কমিশন গঠনের কালো আইনসহ সকল গণবিরোধী কালাকানুন বাতিলের দাবিতে সকল বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্যও আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।