বাম জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ

ডেস্ক রিপোর্ট: বিদ্যুৎ-এর মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারার প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, অযৌক্তিকভাবে বেশি খরচে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে রেখে অহেতুক ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। সব রেন্টাল, কুইক রেন্টাল বন্ধ করা হয়নি। বিদ্যুৎ এ দুর্নীতি, অপচয়, সিস্টেম লস দূর করা হয়নি। এ অবস্থায় খরচ বেড়েছে বলে যে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে-তা অন্যায্য, অন্যায় ও অনৈতিক।
নেতৃবৃন্দ দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, অযৌক্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ব্যয়ের টাকা জনগণ দেবে না। পাশাপাশি নেতৃবৃন্দ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন অবসানে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
আজ ২০ মে শুক্রবার, বিকেল সাড়ে ৪ টায় পল্টন মোড়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুস সাত্তার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী) এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন এর নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী। সভা পরিচালনা করেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা ডা. সাজেদুল হক রুবেল।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, জ্বালানী খাতে ভুলনীতি ও দুর্নীতি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির জন্য দায়ী। নেতৃবৃন্দ ভুলনীতি ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত ও শাস্তির দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিদ্যুৎ এ উৎপাদন বেড়েছে, এটা ঠিক। কিন্তু বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন পরিকল্পিতভাবে হয়নি। এর ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে রেখে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এজন্য বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা নষ্ট করা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি লুটেরা ও কমিশনভোগীদের পকেট ভারী হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ সুন্দরবন ধ্বংসকারী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ অন্যান্য কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ও রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প বন্ধেরও দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ নবায়নযোগ্য জ্বালানী নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া ও দেশের গ্যাস উত্তোলন ও এর প্রতিটি ফোঁটার যথাযথ ব্যবহারের দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ বিদ্যুৎ খাতে কঠোর হাতে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, অপচয় বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, জনগণের স্বার্থ না দেখতে পারলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের প্রয়োজন নেই। আমরা বিইআরসিকে সরকারের আজ্ঞাবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চাই না।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।