বামদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে কংগ্রেস

38

যুগবার্তা ডেস্কঃছাড়া তো দূরের কথা, বামপন্থীদের হাত শক্ত করে ধরেই ‘মানুষের স্বার্থে’ আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নিদান দিল কংগ্রেস হাইকমান্ড। পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস নেতাদের এই কথাই বলেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও সহসভাপতি রাহুল গান্ধী। এই নির্দেশের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এই দুই দলের জোট-ভবিষ্যৎ নিয়ে আপাতত সব জল্পনার অবসান ঘটল।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের মাস দুই আগে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মোকাবিলায় কংগ্রেস ও বামপন্থীরা এক জোট হয়েছিল। নীতি ও আদর্শের দিক থেকে পরস্পরবিরোধী এই দুই দলের জোটকে সুবিধাবাদী তকমাও দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনী ফলে দেখা যায়, যতটা আশা করা হয়েছিল, এই জোট তার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি। তৃণমূল কংগ্রেস ২১১ আসন পেয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসে, জোট পায় মাত্র ৭৭টি আসন। কংগ্রেস আগেরবারের তুলনায় বেশি আসন পেলেও সিপিএমের আসন কমে যায়। শুরু হয় সমালোচনা। বিশেষত বাম মহলে। সিপিএম পলিটব্যুরো জোট ‘চাপিয়ে দেওয়ার জন্য’ রাজ্য নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও পরিস্থিতির বিচারে অন্য গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির সঙ্গে একজোট হয়ে প্রতিরোধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সবার নজর ছিল কংগ্রেসের দিকে। এবার সেই জল্পনারও অবসান ঘটল।
পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী ও রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী ও কংগ্রেস পরিষদীয় দলের নেতা আবদুল মান্নান সম্প্রতি আলাদা আলাদাভাবে দিল্লি এসে সোনিয়া, রাহুলসহ অন্য নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা জানান, রাজ্য বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে জোট অটুট রেখেই তাঁদের মানুষের স্বার্থে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অধীর চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের জোটের সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না, সোনিয়া ও রাহুল দুজনেই তা স্বীকার করেছেন। আরও আগে একজোট হলে ভোটের ফল আরও ভালো হতো বলে তাঁরা মনে করেন।’ গত সোমবার সোনিয়া ও গতকাল মঙ্গলবার রাহুলের সঙ্গে দেখা করে আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, দুজনেই বলেছেন, এই জোটবদ্ধতা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যাচার ও অনাচারের বিরুদ্ধে রাজ্যে জোটবদ্ধ হয়েই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। এই জোট যে সুবিধাবাদী ছিল না, সেই প্রমাণ দিতে হবে।
জোট নিয়ে এই দুই দলের একাংশের মধ্যে নানা রকম প্রশ্ন আছে। দুই দলেই কেউ কেউ নীতির প্রশ্ন তুলে জোটবদ্ধতাকে মেনে নিতে পারেননি। তাঁদের অনেকে বসে গেছেন, কেউ কেউ দলত্যাগও করেছেন। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভোটের পরে বলেছিলেন, জোটে রাহুলের সায় থাকলেও সোনিয়ার নেই। তবে সেটা যে ঠিক নয়, প্রদেশের নেতাদের কাছে সোনিয়াই তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্বও এখন জেলা সফর করে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করছেন। রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বিভিন্ন জেলা কমিটির বৈঠকে তাঁদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছেন, পার্টি কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত ছিল কংগ্রেস ও বিজেপি থেকে সমদূরত্ব রাখা। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও বলা হয়েছিল, ফ্যাসিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবেও কৌশল গ্রহণ করা যাবে। পশ্চিমবঙ্গে দল সেটাই করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যাচার ও বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে সাম্প্রদায়িক চরিত্রের বিকাশ ঠেকাতে বামপন্থীরা ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।
রাজ্য সিপিএম ও কংগ্রেস নেতাদের মনোভাবে এখন এটা পরিষ্কার, ভোট চুকে গেলেও জোট অটুট থাকছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘সন্ত্রাসের মোকাবিলা’ তাঁরা যৌথভাবেই করবেন। ভোট বিশ্লেষণে দুই দলের নেতারাই একমত, আলাদা আলাদা লড়লে দুই দলই আরও কম আসন পেত। ভবিষ্যতেও জোটবদ্ধভাবে তাঁদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আবদুল মান্নানের কথায়, ‘২০১৯ সালের লোকসভা ভোট এই জোটের পরবর্তী পরীক্ষা।’প্রথম আলো