বাবা-মাকে হত্যার দায়ে ঐশীর ফাঁসি

45

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাবা-মাকে হত্যার দায়ে ঐশীর ফাঁসিপুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না রহমানকে হত্যা করার দায়ে এই দম্পতির মেয়ে ঐশী রহমানকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এই হত্যাকাণ্ডে সহায়তা দেওয়ার জন্য ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমানকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে খালাস পেয়েছেন মামলার অন্য আসামি ঐশীর আরেক বন্ধু আসাদুজ্জামান জনি।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক সাঈদ আহমেদ আজ বৃহস্পতিবার আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পরিকল্পিত ও নৃশংস। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দেখা গেছে, ঘটনার সময় আসামি ঐশী প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। নৃশংস হত্যাকাণ্ড বিবেচনায় ঐশীকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই মামলার রায় ঘোষণার ধার্য দিন ছিল আজ। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর ৪ নভেম্বর রায় ঘোষণার এই তারিখ ধার্য করেন আদালত। এর আগে এ মামলার বিচারকাজে রাষ্ট্রপক্ষে ৩৯ জন সাক্ষ্য দেন।রায় ঘোষণার পর ঐশী রহমানকে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়া হচ্ছে। ছবিটি আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তোলা। ছবি: হাসান রাজা
২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ১৭ আগস্ট নিহত মাহফুজুর রহমানের ভাই মশিউর রহমান এ ঘটনায় পল্টন থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই দিনই নিহত দম্পতির মেয়ে ঐশী রহমান পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করে তাঁর বাবা-মাকে নিজেই খুন করার কথা জানান। পরে ২৪ আগস্ট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন তিনি। তবে পরে ওই জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেন ঐশী।
গত বছরের ৯ মার্চ ঐশী ও তাঁর দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্র এবং তাঁদের বাসার শিশু গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে শিশু আইনে পৃথক অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। বিচার শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হলো।