বাজেটে ক্ষেতমজুরদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি দাবি

49

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ ক্ষেতমুজর সমিতির উদ্যোগে ‘গ্রামীণ মজুরদের সামাজিক নিরাপত্তা: আগামী বাজেট’- শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তাগণ আগামী বাজেটে ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের জন্য বরাদ্দ পর্যাপ্তহারে বাড়ানো ও সে বরাদ্দ যেন সাধারণ মানুষের মধ্যে পৌছায় তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
শুক্রবার বিকালে মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি সোহেল আহমদের সভাপতিত্বে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ। আলোচনা করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি, ক্ষেতমজুর সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, ক্ষেতমজুর সমিতির সাবেক সভাপতি শামছুজ্জামান সেলিম। মতবিনিময় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজা।
মতবিনিময় সভায় সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, গ্রামের দরিদ্র মানুষদের মধ্যে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক শক্তি অনুপ্রবেশ করেছে। আমাদেরকে এই সাধারণ মানুষদের মৌলবাদী শক্তির হাত থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রামে আরো বেশি করে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের আদর্শগত, সাংস্কৃতিক কর্মকা-র ওপর বেশি জোর দিতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, দেশের বেশিরভাগ মানুষ ক্ষেতমজুরসহ বিভিন্ন পেশার দরিদ্র মানুষ। এসব মানুষের জন্য বর্তমানে সরকার ১৬০টি কর্মসূচি সুরক্ষা জালের অধীনে ২৩টি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত করছে। ৬ কোটি থেকে ৮ কোটি লোকের জন্য বর্তমানে ১৬হাজার থেকে ৩৭হাজার কোটি টাকা সরকার এ খাতে খরচ করছেন তা অত্যন্ত অপ্রতুল। এসব কর্মসূচির বরাদ্দে ব্যাপক জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। গ্রামীণ শ্রমিকদের পেনশন বা এ জাতীয় কোন ব্যবস্থা নেই। বৃদ্ধ ভাতা, বিধবা ভাতা, দুঃস্থ মাতা ভাতা যাও অপ্রতুল আছে তা মাসিক হারে মাত্র ৩০০-৪০০টাকা বা দৈনিক ১০ থেকে ১৩টাকা। তিনি বলেন গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দের ২৫-৫০ শতাংশ লুটপাট হয়ে যাচ্ছে। তিনি কম দামে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি করেন।
সভায় সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটের একটা বিষয় হলো ধনীদের কাছ থেকে কর আদায় করে তা গরিবদের বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া। এটা আমাদের দেশে একেবারেই হচ্ছে না। গরিব মানুষ তেল, নূন, চাল কিনে কর দেন। অপ্রত্যক্ষ করও বাড়ছে। কিন্তু ধনীরা আয়কর দিচ্ছে না। তিনি আরো বলেন সরকার টেকসই উন্নয়ন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে এসেছেন। কিন্তু তা সফল করতে হলে ৬ কোটি গ্রামীণ মজুরসহ ক্ষেতমজুরের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে হবে, কেউ অনাহারে থাকতে পারবে না। তিনি দরিদ্র মানুষের জন্য স্বাস্থ্য বীমার প্রসঙ্গ এনে বলেন, এসব পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে সেই পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে যায়।