বাগমারায় নারীসহ ২ জন খুন

রাজশাহী অফিসঃ জেলার বাগমারায় পৃথক ঘটনায় বালিশ চাপা দিয়ে ও কুপিয়ে নারীসহ দুইজনকে হত্যার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার রঘুপাড়া ও শিয়ালি গ্রামে হত্যাকান্ড দুটি ঘটে।

স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রীকে ও স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামীকে আটক করেছে বলে বাগমারা থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

বাগমারায় বালিশ চাপা দিয়ে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম সাজ্জাদ হোসেন (২৮)। তিনি উপজেলার গনিপুর ইউনিয়নের রঘুপাড়া গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী খুশিকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, নিহত সাজ্জাদের সঙ্গে প্রায় ৮ বছর আগের বিয়ে হয় খুশি বেগমের। তার বাবার বাড়ি মোহনপুর উপজেলার চাঁচিপাড়া গ্রামে। তাদের ইসাহাক নামের একটি ছয় বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি খুশি বেগম মোবাইলে বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলতেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের সংসারে বিবাদ লেগে থাকতো।

এরই জের ধরে ঈদের কয়েকদিন আগে খুশি তার বাবার বাড়িতে চলে যান। ঈদের মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন গিয়ে তার স্ত্রীকে বাসায় নিয়ে আসেন। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে স্বামী সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে খুশির কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে খুশি তার স্বামীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে।
শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে খুশিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম হোসেন জানান, স্থানীয়দের দেওয়া অভিযোগের পর তাকে থানায় আটক করে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অপর ঘটনায় স্ত্রীকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত ওই নারী হলেন তাহমিনা বেগম (২৭)। তিনি উপজেলার শিয়ালি গ্রামের মিঠুর (৩৮) স্ত্রী। এ ঘটনায় স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার শিয়ালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাহমিনার লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

বাগমারা হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নাইমুল হক জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে শনিবার সকালে আবেদ আলীর সঙ্গে তার স্ত্রী তাহমিনার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আবেদ আলী কোদাল নিয়ে এসে তহমিনার ঘাড়ে কোপ দেন। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মিঠুকে আটক করে পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে এবং নিহতের স্বামী মিঠুকে আটক করে।