বাংলাদেশ-ভারত বন্ধন আরও জোরদার হবে: প্রণব মুখার্জি

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সঙ্গে যে ঐতিহাসিক বন্ধন সৃষ্টি হয়েছিল, তা উল্লেখ করে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বলেছেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের সহযোগিতা যে আরও জোরদার হবে, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। বিশেষ করে দুই দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রথা যখন একই।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির নেহরু স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগারে গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিষয়ে আয়োজিত সেমিনারে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রণব মুখার্জি এসব কথা বলেন।
ভিডিও বার্তায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের জনক হিসেবে অভিহিত করে তাঁর পরিণত নেতৃত্বের প্রশংসা করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রণব মুখার্জি। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে এবং পাকিস্তানের সামরিক জান্তার নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তি পেতে ইন্দিরার নেতৃত্বে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল ভারত।
ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের বিপুল ভোট পেয়ে জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিতেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে তাঁরই সরকার গঠনের প্রস্তাব পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার বদলে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালায় পাকিস্তানের সামরিক জান্তা।
ভিডিও বার্তায় প্রণব মুখার্জি বলেন, সাড়ে সাত কোটি মানুষের মুক্তি ছিনিয়ে আনতে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ভারতের সেনারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলেন। বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের এই ঐতিহাসিক যোগসূত্র বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সহযোগিতার মাত্রা আরও বাড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি।
বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ থেকেই স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি কে সিং, লোকসভার সাবেক স্পিকার মিরা কুমার, বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব ও ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের পরিচালক শক্তি সিনহা।-প্রথম আলো