বাংলাদেশ ব্যাংক বার্তা পাঠালে লেনদেন বন্ধ করা যেত: আরসিবিসি

65

যুগবার্তা ডেস্কঃ ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি) জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলারের পেমেন্ট অর্ডার বন্ধ করা যেত যদি বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি ভিত্তিতে তাদের মেসেজ পাঠাত।
মঙ্গলবার শুনানিতে আরসিবিসির আইন এবং নিয়ন্ত্রক বিভাগের প্রধান মাকেল এস্তাভিলো বলেন, যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক ৯ই ফেব্রুয়ারি তাদেরকে তিনটি বার্তা পাঠিয়েছিল । কিন্তু পাঠানো বার্তাগুলো ছিল অস্পষ্ট এবং অনির্দিষ্ট। তিনি বলেন, আরসিবিসি অবিলম্বেই কোন পদক্ষেপ নিতে পারত যদি তারা এমটি১৯২পেত। এটি পেমেন্ট অর্ডার বন্ধ করার জন্য একটি কোড। বাংলাদেশ ব্যংকের রির্জাভ চুরির মামলায় তারা কোন জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার বার্তা পাঠায় নি। এবং কোন মানি অর্ডার বন্ধ করতে আহবান জানায় নি। তারা শুধুমাত্র ফ্রি ফরমেটে একটি অগ্রহণযোগ্য বার্তা পাঠিয়েছিল বা ৯৯৯।
মানি লন্ডারিং কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত ব্লু রিবন কমিটির তদন্ত বৈঠকে এস্তাভিলো সিনেটরদের আরো বলেন, ৯ই ফেব্রুয়ারি ব্যাংক তিন দিনের ছুটির পর কাজ শুরু করেছিল, আরসিবিসি এই দিন ৭৯০ টি বার্তা পেয়েছে। সবগুলোই সুইফট সিস্টেমের । কিন্তু কোন মেসেজেই এমটি১৯২ ফরমেটে আসেনি । সুইফট হল বিশ্বব্যাপী ইন্টার ব্যাংক ফিনেন্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন মাধ্যম। এর বার্তা সিস্টেম বিশ্বব্যাপী তহবিল প্রেরণে ব্যবহৃত হয়। সেখানে আপাতদৃষ্টিতে কোন জরুরি সংকেত ছিল না। সব বার্তাই সাধারণভাবে গৃহীত হয়েছিল। তাই সবগুলো ক্রমানুসারে খোলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ৯ই ফেব্রুয়ারি সকাল ১১.২২ মিনিটে ব্যাংক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এবং প্রথমেই তারা এমটি৯৯৯ বা ব্যাংক টু ব্যাংক এর বার্তা গুলো পড়েছিল এবং আলফ্রেড সান্তোস ভার্জিয়ার একাউন্টে পাঠানো টাকগুলো ফেরত চাওয়া হয়েছিল। আরসিবিসি পরে দেখে যে এটি একটি কাল্পনিক অ্যাকাউন্ট। এই এমটিটি৯৯৯ এর বার্তাটি পরে আরসিবিসি জুপিটার, মাকাতি ব্যাংক শাখায় পাঠানো হয়।
এস্তাভিলো জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মেসেজ এসেছিল ‘ আপনারা জেনে রাখূন এখানে সন্দেহপূর্ণ লেনদেন হয়। আমরা অনুরোধ করছি পেমেন্ট বন্ধ করার জন্য এবং যদি আপনারা কোন অ্যাকাউন্টের টাকা পেমেন্ট দিয়ে থাকেন তাহলে যথাযথ ভাবে ওই অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাই করুন। আমারা মনে করি এই লেনদেন এন্টি মানিলন্ডারিং আইনের সাথে সাংঘর্ষিক।
এস্তাভিলো বলেন, তিন মিনিট আগেই ১১.১৯ মিনিটে ১৯.৯৫ মিলিয়ন ডলার উইলিয়াম জু এর অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়ে গিয়েছিল। আরসিবিসি পরে দেখে এটি একটি অননুমোদিত অ্যাকাউন্ট।
এস্তাভিলো জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ছোট্ট বার্তা ১১.২৫ মিনিটে পড়া হয়। এর সাথে এনরিকো টিওডোরো ভাসকিউজ’ এর অ্যাকাউন্ট জড়িত আছে। আমরা এটি জুপিটার শাখায় প্রেরণ করি। কারণ সকাল ১০.২৪ মিনিটে ১৫.২১৬ মিলিয়ন ডলার ভাসকিউজের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছিল। রিসিভার অ্যাকাউন্টের টাকা ছাড় দিতে অস্বীকার করে। এবং আরসিবিসি লেনদেনের সব তথ্য অনুসন্ধানে বাধাগ্রস্ত হয়।
১১.৩৪ মিনিট অথবা নয় মিনিট পর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আরেকটি বার্তা পাঠানো হয় , ভাসকিউজের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্যান্য অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল। এই সময় জু এর অ্যাকাউন্ট ৯.৭৬ মিলিয়ন টাকা লেনদেন করেছিল।
তৃতীয় বার্তাটি আমরা পড়ি ১১.৩০ মিনিটে। এটি হল ক্রিসটোপার লাগ্রোসাস এর অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত। কিন্তু লাগোরাসের অ্যাকাউন্টে ৫ ই ফেব্রুয়ারি ৩.১৬ মিনিটে ২২.৭ মিলিয়ন টাকা স্থানান্তর হয়।
আমরা যখন ১১.৩৫ মিনিটে পেমেন্ট অর্ডার বন্ধ করতে বার্তা পাই এর পাঁচ মিনিট আগেই জু এর অ্যাকউন্ট থেকে ৭.২৩ মিলিয়ন টাকা স্থানান্তর হয়েছিল।
এস্তাভিলো আরো বলেন, এই মেসেজ যে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পাঠানো হয়েছিল তার কোন উল্লেখ ছিল না। আমরা জানতাম না এটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্তা । আমরা ভেবেছিলাম এটি কোন সাধারণ ব্যাংকের বার্তা। লিহান লিমা, আমাদের সময়.কম