বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে কার্গো পণ্য পরিবহনে ইইউ’র বিধিনিষেধ

40

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশকে ‘হাই রিস্ক’ দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে আকাশপথে কার্গো পণ্য পরিবহনে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয় কার্গোতে পণ্য পাঠাতে বাড়তি তল্লাশির করার কথা বলছে তারা। সোমবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধি দল সিভিল এভিয়েশন অথরিটির সঙ্গে বৈঠক করে বিধিনিষেধের বিষয়টি অবহিত করে।
কার্গো পণ্য পরিবহনসিভিল এভিয়েশন সূত্র জানায়, সোমবার সিভিল এভিয়েশন কার্যালয়ে আসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতসহ একটি প্রতিনিধি দল। তারা সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এহসানুল গণি চৌধুরীসহ সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে ইইউ’র প্রতিনিধিরা জানান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশকে ‘হাই রিস্ক’ দেশ হিসেব ঘোষণা দিয়েছে। নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য আকাশপথে কার্গোর মাধ্যমে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে যাবে, সেসব পণ্য দ্বিতীয় দফায় স্কিনিং (তল্লাশি) করতে হবে।
এবিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক কাজী ইকবাল করিম বলেন, ‘এ সিদ্ধান্তে আমাদের কার্গো পণ্য পরিবহনে কোনও সমস্যা হবে না। বাংলাদেশেও দ্বিতীয় ধাপে স্কিনিং করার সুযোগ রয়েছে।’
কার্গো পণ্য পরিবহনকাজী ইকবাল করিম বলেন, ‘ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য আকাশপথে কার্গোর মাধ্যমে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোতে যাবে, সেসব পণ্য স্কিনিংয়ে (তল্লাশি) সেকেন্ডারি মেথেড ফলো করতে হবে। প্রাথমিকভাবে আমরা সব পণ্য স্কিনিং করি। এখন প্রাথমিক স্কিনিংয়ের পাশাপাশি সেকেন্ডারি মেথড ফলো করতে হবে। এটা বাংলাদেশেও করা যেতে পারে, অথবা তৃতীয় কোনও দেশেও করা যাবে।’
তিনি আরও জানান, যেসব এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ থেকে কার্গো পণ্য নিয়ে যাবে তারা চাইলে বাংলাদেশে দ্বিতীয় ধাপে স্কিনিং করতে পারবে কিংবা অন্য কোনও দেশেও করতে পারবে। মোট কথা, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর আকাশসীমায় কার্গোপণ্য বাংলাদেশ থেকে নিতে হলে দ্বিতীয় ধাপে স্কিনিং করতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপে স্কিনিং প্রসঙ্গে কাজী ইকবাল করিম বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপে স্কিনিং বলতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বলেছে এক্সপ্লোসিভ ডিটাকশন মেথড। এক্সপ্লোসিভ ডিটাকশন মেথডের মধ্যে এক্সপ্লোসিভ ডিটাকশন ডগ (কুকুর) দিয়েও স্কিনিং করা যেতে পারে অথবা এক্সপ্লোসিভ ডিটাকশন যন্ত্রও হতে পারে। আমাদের এক্সপ্লোসিভ ডিটাকশন সিস্টেম (এলইডিএস) কেনা হয়েছে, এটি কার্যকর করতে দু’মাসের মতো সময় লাগবে। তবে বর্তমানে আমরা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) অথবা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ডগ স্কোয়ার্ড দিয়ে স্কিনিং করতে পারবো।
এদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে বিস্ফোরক শনাক্তকরণ যন্ত্রসহ আধুনিক স্কিনিং যন্ত্র বসানো প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশি, যানবাহন তল্লসশি, তরল বিস্ফোরক শনাক্তকরণে আলাদা আলাদা যন্ত্র বসানো হচ্ছে। ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেডলাইনের পরামর্শে এসব যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু যন্ত্রপাতি সংযোজনের কাছে চলছে। এছাড়া বেশ কিছু যন্ত্রপাতি শাহজালালে সংযোজন হয়েছে, কিছু সংযোজনের কাজ চলমান রয়েছে। বাকি যন্ত্রপাতি ঢাকায় এলে সংযোজন করা হবে।
প্রসঙ্গত, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২০১৬ সালের মার্চে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাজ্য। এরপর যুক্তরাজ্যের পরামর্শে শাহজালালের নিরাপত্তার দায়িত্বে পায় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেড লাইন। প্রতিষ্ঠানটি সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা কর্মীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশিসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের পরামর্শ দেয়।-বাংলাট্রিবিউন