বাংলাদেশে ‘সত্যিকার এবং নির্ভরযোগ্য’ সন্ত্রাসের হুমকি দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

45

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশে কর্মরত ও বসবাসরত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা কাটেনি। তারা শঙ্কিত, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও আগামী দিনের পরিস্থিতি নিয়ে। এই কারণে তারা তাদের দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি মাথায় রেখে ফের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশে বসবাসরত ও কর্মরত তার দেশের সকল নাগরিক, তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে। এই সতর্কবার্তা দীর্ঘ মেয়াদের জন্য জারি করা হয়েছে। এটা অব্যাহত থাকবে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে হামলা হতে পারে বিদেশি নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, তারা কোন অনুষ্ঠানে গেলে কিংবা কোন কোন স্থানে থাকলেও হামলা হতে পারে। যানবাহনের উপরও হামলা হতে পারে সেই আশঙ্কা প্রকাশ করে জারি করা নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কবার্তা কি ধরনের হামলা হতে পারে সেটাও তুলে ধরা হয়েছে।
পাশাপাশি দুই বিদেশি হত্যা সহ, এই পর্যন্ত যে সব ঘটনা ঘটেছে সেটারও কিছু কিছু তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিলের আগে বোমা হামলা, প্রকাশক হত্যা ও অন্য আরেক প্রকাশকের উপর হামলার ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এনিয়ে অক্টোবর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ছয় বারের মতো সতর্ক বার্তা জারি করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বার বার তাদের নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশে সতর্ক বার্তা জারি করলেও সেটাকে সরকার তেমন আশঙ্কাজনক মনে করছেন না। বরং সরকারের দাবি, তারা সকল বিদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমরা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি। সব বিদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি তারা সুনির্দিষ্ট করে আরো বেশি নিরাপত্তা চান সেটাও নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি কোন সমস্যা হবে না।
এদিকে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের উপর হামলার কোন আশঙ্কা না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন নাগরিকদের বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে। তারা এটাও বলেছে, এদেশে সত্যিকার এবং নির্ভরযোগ্য’ সন্ত্রাসী হুমকি রয়েছে। মঙ্গলবার নতুন করে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, বাংলাদেশে আবার বিদেশিদের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে বিদেশিদের বড় ধরনের জমায়েতে সন্ত্রাসী হামলার নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে দুই বিদেশি খুনের পর ঢাকার মার্কিন দূতাবাস ভ্রমণ সতর্কতা জারি করলেও এবার খোদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই এই সতর্কতা জারি করল। যুক্তরাষ্ট্র ব্লগার হত্যা এবং আরো একাধিক হত্যা এবং বোমা নিক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেছে, আরো হামলার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওই সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, যদিও বাংলাদেশে মার্কিন কর্মকর্তারা কোনো অঘটনা ছাড়াই কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে (ঢাকা¯’ মার্কিন) দূতাবাস ব্যক্তিগত চলাফেরার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারকে বেশিরভাগ পাবলিক প্লেসে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। রাস্তায় কিংবা গলিতে পায়ে হেঁটে, মোটর সাইকেল, বাইসাইকেল, রিকশা কিংবা অন্যান্য খোলা যানবহনে চড়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক হোটেলের অনুষ্ঠানসহ বড় সমাবেশে যোগ দেয়ার ক্ষেত্রেও তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সতর্ক বার্তায় বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তারা আশা করছে, বাংলাদেশে অবস্থানকালে মার্কিন নাগরিকরাও একই ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা অবলম্বন করবেন। তবে সন্ত্রাসী হামলার ধরণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং বলেছে, গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করে না। সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় এক ইতালীয় ত্রাণকর্মী এবং রংপুরে এক জাপানি সাহায্যকর্মীকে খুন এবং এরপরে ঢাকায় এক শিয়া সমাবেশে হামলা চালিয়ে দুইজনকে হত্যা করার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট। তবে বাংলাদেশ সরকার এজন্য দেশীয় ইসলামী জঙ্গিদের দায়ী করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই সতর্কবার্তার পর ঢাকাস্ত মার্কিন দূতাবাস তাদের ওয়েব সাইটে সতর্কবার্তা প্রকাশ করে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যপন্থী দক্ষিণ এশিয়র এই দেশটিতে বিদেশিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে বলে তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য আছে। ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ সতর্কবার্তা কার্যকর থাকবে। বাংলাদেশে আবার বিদেশিদের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে বিদেশিদের বড় ধরনের জমায়েতে সন্ত্রাসী হামলার নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশে মার্কিন কর্মকর্তাদের ও নাগরিকদের ব্যক্তিগত চলাফেরার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর জাপানী নাগরিক কুনিও এবং ২৮ সেপ্টেম্বর ইতালির তাভেলা ত্রাণকর্মীকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরবর্তীতে এ ঘটনার দায় স্বীকার করে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন আইএস। ওই ঘটনার পর থেকেই তারা বার বার সতর্কবার্তা জারি করছে। এর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তাহীতার আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে। এনিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও করেছেন ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট। তিনি তাদের আশঙ্কার কথা প্রকাশ করা ছাড়াও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন।আমাদের সময়.কম