বাংলাদেশে বাঘ ১০৬, ভারতে ৭৬

42

সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা ১০৬টি। ভারতের অংশে আছে ৭৬টি। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা বেশি থাকলেও বাঘের জন্য সবচেয়ে অনিরাপদ ক্ষেত্র হচ্ছে সুন্দরবনের খুলনার অংশ।
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথভাবে পরিচালিত বাঘ জরিপের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই যৌথ প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করেন। সরকারের ওয়াইল্ড লাইফের (বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) খুলনার বিভাগীয় কর্মকর্তা জাহিদুল কবির এসব তথ্য জানিয়েছেন।
জাহিদুল কবির জানান, ক্যামেরা ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে এ জরিপ পরিচালিত হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রায় ছয় হাজার ৭২৪ বর্গকিলোমিটার বনভূমিতে। এ জরিপ কাজে বাংলাদেশের ওয়াইল্ড লাইফকে সহায়তা করেছে ভারতের ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট। এরমধ্যে বাংলাদেশ অংশে প্রথম দফায় ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের মার্চ ও দ্বিতীয় দফায় ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত চলে এই জরিপকাজ। আর ভারত অংশের সুন্দরবনে ২০১২, ২০১৩, ২০১৪ সালে এ জরিপ চালায় ভারতের বন বিভাগ ও ভারত ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট।
জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সুন্দরবনে ত্রুমান্বয়ে বাঘের ঝুঁকি বাড়ছে। এ ছাড়া আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা বেশি থাকলেও সর্বোচ্চ বাঘ ঘনত্ব রয়েছে ভারতে। দেশটির সাজনাখালী অংশকে বলা হয়েছে বাঘের জন্য নিরাপদ স্থান আর সবচেয়ে অনিরাপদ হলো খুলনার সুন্দরবন অংশ। সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে জাহাজ-ট্রলার চলাচল, পণ্য পরিবহন, দূষণ, বন উজার, চোরাকারবারিদের বাঘ হত্যাসহ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পদক্ষেপকে বাঘের আবাসস্থল নষ্টের অন্যতম কারণ হিসেবে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ বিষয়ে বাংলাদেশ কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে না পারলে ১০৬টি বাঘের সংখ্যাটি বাড়বে না, বরং কমে আসবে।