বাংলাদেশেও পাতাল রেল ও বুলেট ট্রেন হবেঃ নুতন রেল উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

50

যুগবার্তা ডেস্কঃ ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বিরতিহীন ট্রেন ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে বিরতিহীন ট্রেনের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশেও পাতাল রেল এবং বুলেট ট্রেনের মতো আধুনিক রেলনেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।’
এর মধ্য দিয়ে ভারতীয় ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ সহায়তায় মোট ২৭০টি কোচ দিয়ে ট্রেন পরিচালনা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। একই সঙ্গে খিলগাঁও ফ্লাইওভারের ইউ লুপ ও হাতিরঝিল ইউ লুপের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। সারা দেশকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনা হবে।’
তিনি বলেন, ‘উন্নত দেশের মতো পাতাল ও বুলেট ট্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বাংলাদেশেও পাতালরেল এবং বুলেট ট্রেনের মতো আধুনিক রেলনেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ৫০টি ব্রডগেজ ও ১০০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচ এবং ভারতীয় ঋণ সহায়তায় ১২০টি যাত্রীবাহী কোচ রেলওয়েতে সংযোজিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী রেলের উন্নয়নে তার সরকারের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এই সরকারের আমলে ৯৮টি নতুন ট্রেন চালু হয়েছে। ২৬টি ট্রেনের সেবা বাড়ানো হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী আসন্ন ঈদুল ফিতরে যাত্রীদের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভ্রমণের প্রত্যাশা করেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী এই এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে যাত্রীবাহী বগি থাকছে ১৬টি। এতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচের পাশাপাশি শীতাতপহীন কোচও থাকছে। তবে এ ট্রেনে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কোচের সংখ্যাই বেশি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে বিরতিহীন ট্রেন সোনার বাংলা এক্সপ্রেস। আগামীকাল রোববার থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চলাচল শুরু করবে। আর রাজশাহী রুটে চলবে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস।
সোনার বাংলা এক্সপ্রেস পাঁচ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পৌঁছবে। সকাল ৭টায় ঢাকার কমলাপুর থেকে যাত্রা করে দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম পৌঁছবে। ট্রেনটি বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছবে। ট্রেনটি ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন ছাড়া অন্য কোনো স্টেশনে থামবে না।
প্রধানমন্ত্রী কমলাপুর রেলস্টেশন থেকেই খিলগাঁও ফ্লাইওভারে স্থানীয় সরকার বিভাগের তৈরি খিলগাঁও ফ্লাইওভারের লুপ খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
এর আগে জাতীয় সংসদ থেকে বের হয়ে খিলগাঁওয়ের ওই লুপ ঘুরে কমলাপুরে যান তিনি। ফেরার পথে প্রগতি সরণি-বনশ্রী সংযোগ সড়কে নেমে প্রধানমন্ত্রী হাতিরঝিল প্রকল্পের সাউথ ইউ লুপের ফলক উন্মোচন করেন।