বাংলাদেশি শ্রমিকের অভাবে মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে ধীরগতি

62

যুগবার্তা ডেস্কঃ দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে মালয়েশিয়ার সরকার ফেব্রুয়ারি মাসে ১৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পরবর্তীতে তা স্থগিত করা হয়। মালয়েশিয়ার পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত এই সমস্যা নিয়ে চলতে হবে।কিন্তু এর মধ্যে ঘটছে দেশে জনশক্তি সংকট।
বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম ও জনপ্রিয় মালয়েশিয়ার ফার্নিচার। এ খাতে প্রতি মাসে শিপমেন্ট ২৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফার্নিচার খাতে ২৭ হাজার কর্মীর অভাব রয়েছে।
এছাড়া কৃষি কাজের উদ্যেক্তারা স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়ে কৃষি কাজ করাতে পারছেন না। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন না হওয়ায় মালয়েশিয়ার ফলের মূল্য প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে মালয়েশিয়ার ম্যানুফেকচারার ফেডারেশন জানিয়েছে, সংস্থাটির ৮৪ ভাগ সদস্য জনশক্তি সংকটে রয়েছে। অর্ধেক প্রতিষ্ঠান অর্ডার পূরণ করতে পারছে না। গত দুই সপ্তায় আগে উদ্যোক্তারা শ্রমিকের অভাবে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এই অবস্থায় সরকার যদি বিদেশি শ্রমিক আমদানির অনুমতি না দেয় তাহলে উৎপাদন কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়বে।
মালয়েশিয়ার সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার মোট জনশক্তির মধ্যে অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের সংখ্যা ১০ লাখ। যা বিদেশি শ্রমিকদের ১৫ শতাংশ। মালয়েশিয়া এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক আমদানির দেশ। উন্নত অর্থনীতি, কর্মস্থান ও ভালো বেতন সরবরাহ করার কারণেই আঞ্চলিক অনেক দেশের চেয়ে শ্রমিক আমদানিতে এগিয়ে।
তাছাড়া ডার্টি, ডেনজারাস ও ডিফিকাল্ট (থ্রিডি) এই কাজের জন্য মালয়েশিয়ার স্থানীয়রা করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। কৃষি কাজ, নির্মাণ ও ম্যানুফেকচারিং কাজেও মালয়েশিয়ার স্থানীয়দের কাজ করার আগ্রহ নেই। ফলে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজারে ধীরগতি চলছে।
মালয়েশিয়ার একটি প্রদেশে পাম ওয়েল খাতে বছরে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হচ্ছে। কারণ পাম ওয়েলে কাজ করার মতো স্থানীয় বা বিদেশি যথেষ্ট শ্রমিক নেই। শ্রমিক সংকটের কারণে পাম চাষ করা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সরকার বিদেশি শ্রমিক আমদানি করার প্রয়োজন মনে করছে। ৪৪ শতাংশ শ্রমিককে থ্রিডি কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় মালয়েশিয়ায়।
ইউরোপ ও আমেরিকার সরকার বিদেশি শ্রমিকদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বিদেশি শ্রমিক আমদানি করছে। মালয়েশিয়া থ্রিডি কাজে বিদেশি শ্রমিকদের আমদানি করা স্থগিত করেছে।
মালয়েশিয়ায় প্রকৃত শ্রম বাজারের চাহিদা ও অর্থনীতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বাংলাদেশি ১৫ লাখ শ্রমিক আমদানি করা প্রয়োজন। মালয়েশিয়ার সরকার নির্দিষ্ট খাতের জন্য বিদেশি শ্রমিক আমদানি করার অনুমোদন না দিলে অর্থনীতি ক্ষতির দিকে যাবে।