বাঁশখালীতে হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে দেশব্যাপি জাতীয় কমিটির বিক্ষোভ সমাবেশ

91

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাঁশখালীতে হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ঢাকা মহানগর আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বিদ্যুৎ এর মূলা ঝুলিয়ে শুধু জমি জবর দখল নয় হত্যাকান্ডের মাধ্যমে সরকার লুটপাট অব্যাহত রাখার যে পথ বেছে নিয়েছে তা দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে। সমাবেশ থেকে উন্নয়নের নামে মানুষ হত্যা ও কৃষি জমি, বসতভিটা, প্রকৃতির ধ্বংসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
আজ বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় কমিটির ঢাকা মহানগর সমন্ময়ক জাহাঙ্গীর আলম ফজলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী বিডি রহমতউল্লাহ, কিশোর রায়, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, খালেকুজ্জামান লিপন, মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন, শহিদুল ইসলাম সবুজ, আকবর খান, ফখরুদ্দিন কবীর আতিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রকৌশলী বিডি রহমতউল্লাহ বলেন, বাঁশখালীতে জমি কেনার আগে বলা হয়েছিল, এখানে বন্দর ও শিল্প কলকারখানা হবে। এরপর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কথা বলা হলো। এমন কি পরিবেশগত সমীক্ষা চুড়ান্ত হওয়ার আগেই পিডিবি, এস আলম কোম্পানীর সাথে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করলো।
স্থানীয় জনগণ এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পরও সরকার যুক্তির পথে না এসে এই হত্যাকান্ড সংগঠিত করলো।
সভাপতির বক্তৃতায় জাহাঙ্গীর আলম ফজলু বলেন, যে উন্নয়ন মানুষ হত্যা করে, যে উন্নয়ন কৃষি জমি ধ্বংস করে, যে উন্নয়ন দুই একজন পুঁজিপতির পকেট ভারি করে অথচ সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিঘিœত করে ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনে সেটি উন্নয়ন নয়। এর বিরুদ্ধে জন প্রতিরোধ গড়ে তুলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি অবিলম্বে বাঁশখালী হত্যাকান্ডের বিচারের ও বাঁশখালী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন স্থগিতের দাবী জানান।
তিনি বলেন পরিবেশগত সমীক্ষা চুড়ান্ত না করে ও স্থানীয় জনগণের মতামত ছাড়া এ ধরনের কোন প্রকল্প গ্রহনের অধিকার সরকারের নেই।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত দুবছর ধরে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাধারণ মানুষ তাদের যথা তুলে ধরলেও সরকার ও প্রচারযন্ত্র পাত্তা দেয়নি। আগে থেকে যুক্তি ও সাধারণ মানুষকে প্রাধান্য দিলে মানুষকে জীবন দিতে হতো না। বক্তারা বলেন দুর্বৃত্তায়িত ব্যবসায়ীদের সুুবিধা দিতে সরকার নানা প্রকল্পের অনুমতি দিচ্ছে। এখানে জনগনের স্বার্থ নেই, আছে লুটপাটকারীদের স্বার্থ।
সারাদেশে একই দাবিতে জাতীয় কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব থেকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিন করে পুরানা পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।