বাঁশখালীতে হত্যাকান্ডের প্রতিবাদের জাতীয় কমিটির ৮ এপ্রিল দেশব্যাপী বিক্ষোভ

53

বাঁশখালীতে হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বিদ্যুৎ এর মূলা ঝুলিয়ে শুধু জমি জবর দখল নয় হত্যাকান্ডের মাধ্যমে সরকার লুটপাট অব্যাহত রাখার যে পথ বেছে নিয়েছে তা দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে। সমাবেশ থেকে উন্নয়নের নামে মানুষ হত্যা ও প্রকৃতির ধ্বংসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রুহিন হোসেন প্রিন্স, প্রকৌশলী জ্যোতির্ময় বড়য়া ও প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাইফুল হক, রাজেকুজ্জামান রতন, জোনায়েদ সাকী, শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, মোশরেফা মিশু, মোশারেফ হোসেন নান্নু, জাহাঙ্গীর আলম ফজলু সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বাঁশখালীতে জমি কেনার আগে বলা হয়েছিল, এখানে বন্দর ও শিল্প কলকারখানা হবে। এরপর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কথা বলা হলো। এমন কি পরিবেশগত সমীক্ষা চুড়ান্ত হওয়ার আগেই পিডিবি, এস আলম কোম্পানীর সাথে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করলো।
স্থানীয় জনগণ এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পরও সরকার যুক্তির পথে না এসে এই হত্যাকান্ড সংগঠিত করলো।
তিনি বলেন, যে উন্নয়ন মানুষ হত্যা করে, যে উন্নয়ন সুন্দরবন ধ্বংস করে, যে উন্নয়ন কৃষি জমি ধ্বংস করে, যে উন্নয়ন দুই একজন পুঁজিপতির পকেট ভারি করে অথচ সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিঘিœত করে ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনে সেটি উন্নয়ন নয়। এর বিরুদ্ধে জন প্রতিরোধ গড়ে তুলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি অবিলম্বে বাঁশখালী হত্যাকান্ডের বিচারের ও বাঁশখালী কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন স্থগিতের দাবী জানান।
তিনি বলেন পরিবেশগত সমীক্ষা চুড়ান্ত না করে ও স্থানীয় জনগণের মতামত ছাড়া এ ধরনের কোন প্রকল্প গ্রহনের অধিকার সরকারের নেই।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত দুবছর ধরে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাধারণ মানুষ তাদের যথা তুলে ধরলেও সরকার ও প্রচারযন্ত্র পাত্তা দেয়নি। আগে থেকে যুক্তি ও সাধারণ মানুষকে প্রাধান্য দিলে মানুষকে জীবন দিতে হতো না। বক্তারা বলেন দুর্বৃত্তায়িত ব্যবসায়ীদের সুুবিধা দিতে সরকার নানা প্রকল্পের অনুমতি দিচ্ছে। এখানে জনগনের স্বার্থ নেই, আছে লুটপাটকারীদের স্বার্থ।
সমাবেশ থেকে বাঁশখালী হত্যাকান্ডের বিচার, প্রান-প্রকৃতি ধ্বংসকারী প্রকল্প সমূহ বাতিলের দাবীতে আগামী ৮ এপ্রিল দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষনা করা হয়।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি