বশেমুরবিপ্রবিতে হলে অবৈধ সিট দখল ও সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শেখ রেহেনা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা সাম্প্রদায়িকতা, অবৈধ সিট দখল ও নিরাপত্তা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অবনতি হবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

গত ৩১ জুলাই শেখ রেহানা হলে অবস্থানরত ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে সাদিয়া (৪র্থ বর্ষ) অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী বশেমুরবিপ্রবির চ্যানেল২৪ অনলাইনের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি অহনা মজুমদারের (৩য় বর্ষ) বিরুদ্ধে সিট দখলসহ বিভিন্ন ধরনের অপমানজনক ও ক্ষমতা প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন।

তিনি অভিযোগ পত্রে বলেন, অহনা তাকে রুমে ডেকে ভিসি স্যার বা প্রভোস্ট স্যার না নামতে বললে তিনি (অহনা) সিট থেকে নামবেন না এবং স্যারের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তিনি হ্যান্ডেল করব বলে জানান।

অপরদিকে উক্ত হলের ১০৯ নং কক্ষের মোছাঃ জেরিন তামান্না (বাংলা বিভাগ), তমালিকা মোন্ডল মোছাঃ নিলুফা ইয়াসমিন (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ) অহনা মুজমদারের বিরুদ্ধে ফোনে কথা রেকডিং এর মাধ্যমে ব্যক্তি স্বাধীনতার হস্তক্ষেপ এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে হল প্রভোস্ট বরাবর অভিযোগ জানিয়েছেন।

এদিকে এর আগে গত ২০ জুন সাম্প্রদায়িকতা ও র‍্যাগিং এর জেরে নিরাপত্তাহীনতা বিষয়ে অহনা মজুমদার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি অভিযোগ পত্র প্রদান করলে প্রক্টর দপ্তর প্রায় ১ মাস পর গ্রহণ করেন।

অহনা অভিযোগ পত্রে, রুমে আসার পর থেকে অন্য সদস্যদের তার সাথে সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ না করা, র‍্যাগিংসহ ধর্ম চর্চায় স্বাধীনতা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এবং রুমে লোকচক্ষুর আড়ালে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এর ছবি নিয়ে অন্যান্য সদস্যদের আপত্তি এবং নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান।

এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট মোঃ রোকনুজ্জামান জানান, হলের সিটের সাথে সাম্প্রদায়িক কোনো বিষয় সম্পৃক্ত নয়। আমি গত জুন মাসে ঈদের ছুটির আগে সহকারী হল প্রভোস্ট ইসরাত জাহান দিনা, মাহাবুবা উদ্দিনকে নিয়ে ওই কক্ষের সবার সাথে বসে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি।

তিনি আরও জানান, অহনাকে সাময়িক ভাবে উপাচার্যের নির্দেশে ২৮ জুলাই পর্যন্ত হলে থাকার জন্য বলা হয়। এরপর আমি একজন সহকারী হল প্রভোস্টসহ বিষয়টি সমাধান করতে গেলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং অহনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ দিতে থাকে। এ ঘটনার পর তাকে অন্য কক্ষে থাকবার ব্যবস্থা করে যেতে বলে প্রায় দুই ঘন্টা অপেক্ষা করে চলে আসি। পরে জানতে পারি, তখনও হলের সিট ছাড়েনি অহনা।

অহনার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা।

এদিকে ক্যাম্পাস সাংবাদিক কে এম ইয়ামিনুল হাসান আলিফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করলে তার বিরুদ্ধে থানায় একটি জিডি করার হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমানকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একিউএম মাহবুব বলেন, হলের এ ঘটনা নিয়ে তোমরা কোনকিছু লেখালেখি করো না।