বরিশালে ৪ শ্রমিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

বরিশাল অফিস : বরিশাল নগরীর এক হোটেলের ৪ শ্রমিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় বরিশাল অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রমিক নেতা স্বপন দত্তের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা এ্যাড. এ কে আজাদ, তুষার সেন, নৌযান শ্রমিক নেতা আবু সাঈদ, শেখ আবুল হাসেম, মোঃ আলম খান, বাবুল হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধনে হোটেল ওয়াজেদিয়ার মালিক কর্তৃক হোটেলের সিনিয়র বাবুর্চী মোঃ নাসির উদ্দিন মোল্লা, সহকারী বাবুর্চী মোঃ সোহেল, কারিকর মোঃ জামাল, পার্সেল বয় মোঃ জাহিদ এর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার, শ্রমিক কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরী ২০ হাজার টাকা, চাকুরীতে যোগদানের দিন থেকে নিয়োগপত্র, সার্ভিস বই, শ্রমিক ছাঁটাই নির্যাতন বন্ধ সহ শ্রমিক শ্রেণির ১৫ দফা দাবি তোলা হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, অবিলম্বে হোটেল শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
শ্রমিক শ্রেণির ১৫ দফাগুলো হলো-বেসরকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কর্মচারীদের কাজে যোগদানের দিন থেকে নিয়োগ পত্র, সার্ভিস বই দিতে হবে এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যয়, বাড়ি ভাড়া ও যানবাহনের ভাড়া কমাও। শ্রমজীবীদের জন্য আলাদা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা কর। ন্যূনতম মজুরী গ্রোস সহ ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা দিতে হবে। আই এল ও কনভেনশন ১২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আহত ও নিহত শ্রমিক কর্মচারীদের আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শ্রমিক নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার কর। ইমারত নির্মাণ শ্রমিকদের কাজ শুরুর পূর্বে সেফটি নেট, হেলমেট, নিরাপত্তা বেল্ট দিতে হবে এবং ষাটোর্ধ সকল শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য পেনশন স্কীম চালু কর। অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের সরকারী তালিকাভুক্ত করুন এবং গ্রুপ বীমার আওতাভুক্ত করুন। বস্তিবাসীদের স্ব স্ব স্থানে স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রদান করতে হবে। বস্তিবাসীদের শিক্ষা, চিকিৎসা, সারা বছর কাজ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। অফিস আদালত, শিল্প প্রতিষ্ঠানে ঘুষ-দুর্নীতি-অনিয়ম দূর করে জবাবদিহিতা চালু করতে হবে। আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ অনুসারে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। নারী পুরুষ নির্বিশেষে সমান কাজে সমান মজুরী, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, চাকুরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং নারী শ্রমিকদের প্রসূতিকালীন ৬ মাস সবেতনে ছুটি দিতে হবে।
সরকারি উদ্যোগে শিশু শ্রমিকদের যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে হবে এবং সেই অর্থে শিশু শ্রম বন্ধ করতে হবে। বিড়ি, গুড়া মসলা, দর্জি, বস্তিবাসী, কল-কারখানার শ্রমিক ও দিন মজুর শ্রমিকদের রেশন দিতে হবে। দোকান কর্মচারী, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ঘাট শ্রমিক কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরী ও কর্ম ঘন্টা নির্ধারণ কর। সমুদ্রে মৎস্য আহরণকারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মজুরী ও কর্মঘন্টা নির্ধারণ কর এবং বিদেশে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা দিতে হবে। বরিশাল সিটি সহ সারাদেশে অবৈধ যানবাহন উচ্ছেদ, রিক্সা-ভ্যান-ঠ্যালাগাড়ি ও অটো চালক/শ্রমিকদের জন্য কল্যাণ তহবিল গড়ে তোলা এবং তাদেরও গ্রুপ বীমার আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও অটো চলাচলে পুলিশী বাধা অপসারণ কর। সরকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানে আউট সোর্সিং ব্যবস্থা বাতিল করে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, গৃহ শ্রমিকদের সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন ও ন্যূনতম মজুরী সহ আইনানুগ সুবিধা নিশ্চিত করা।