বরিশালে ৪০ আদালতে মামলা সাড়ে ৪৮ হাজার বিচারক মাত্র ২৪ জন!

94

কল্যাণ কুমার চন্দ,বরিশাল থেকে ॥ ৪০টি আদালতে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ৪৮ হাজার ৬৭৬টি। এই পাহাড় সমতুল্য মামলার বিচার কাজের জন্য বর্তমানে বিচারক রয়েছেন মাত্র ২৪ জন। নতুন কোন মামলা না আসলে উল্লেখিত সংখ্যক মামলার নিষ্পত্তি করতে সময় লাগবে কমপক্ষে একযুগ। তবে এর সঙ্গে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক নতুন মামলা যুক্ত হচ্ছে। ফলে মামলার জট দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ অনুসন্ধানে বরিশালের আদালতে মামলা জটের নেপথ্য কারণ খুঁজতে গিয়ে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
বিচারপ্রার্থী ও প্রত্যাশীরা মনে করছেন, স্বাক্ষীদের অনুপস্থিতিতে বেশীর ভাগ মামলায় পুলিশের দায়সারা তদন্ত রিপোর্ট, রাজনৈতিক নেতাদের অদৃশ্য প্রভাব বিস্তারসহ আইনজীবী এবং আদালতের কর্মচারীদের আন্তরিকতার অভাবে মামলার জট কোন ক্রমেই নিস্পত্তি হচ্ছেনা। সূত্রটি আরও দাবি করেছেন, শুধু আদালতের বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো হলেই মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হবে না। এসব সমস্যারও সমাধান করতে হবে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর র‌্যাব-৮ নগরীর রূপাতলী এলাকার মাদক ব্যবসায়ী শাহিন মাঝিকে ২০ পুড়িয়া হেরোইনসহ আটক করে। ওই ঘটনায় র‌্যাবের ডিএডি মিজানুর রহমান বাদি হয়ে ওইদিনই তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ২০১৩ সালের ১৮ এপ্রিল মামলার বিচার কাজ শুরুর জন্য আদালতে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। মামলার ১১ স্বাক্ষীর একজনও ধার্য্য তারিখগুলোতে আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচার কাজ থমকে যায়। তাদের আদালতে হাজির করার জন্য কোতয়ালী মডেল থানার ওসির কাছে মোট ১৩ বার গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর নোটিশ পাঠায় আদালত। কিন্তু তিনি ওই নোটিশের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি । এছাড়াও নির্দেশ তামিল সংক্রান্ত কোন প্রতিবেদনও আদালতে জমা দেননি তিনি। এর প্রেক্ষিতে গত ১৩ অক্টোবর পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে ওসিকে স্বাক্ষীদের হাজির করার জন্য জামিন অযোগ্য গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিলের নির্দেশ দেন আদালত। এরপরও স্বাক্ষীদের হাজির না করায় গত ১৮ নভেম্বর বরিশালের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুল হামিদ নির্দেশ অমান্য করায় ওসিকে আগামী ৪ জানুয়ারির মধ্যে স্ব-শরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে কারন দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইভাবে স্বাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারনে নিস্পত্তি হচ্ছে না বরিশাল আদালতের কয়েক হাজার মামলা।
আদালতের অপর একটি সূত্র জানায়, দ্রুত মামলা নিস্পত্তির প্রথম ধাপ হচ্ছে তদন্ত সঠিক ভাবে করে সময়মত রিপোর্ট জমা দেয়া। এরপর স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহণের তারিখে আদালতে উপস্থিত থাকা দরকার। যত দ্রুত স্বাক্ষ্য শেষ হবে তত দ্রুত মামলার বিচার নিষ্পত্তি হবে। তবে স্বাক্ষীদের হাজিরের জন্য আদালত থেকে নোটিশ দেয়া হলেও আসামি পক্ষ অর্থের বিনিময়ে ওই নোটিশের খবর স্বাক্ষীদের জানতে দেন না। পরবর্তীতে ওই স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে জারী করা হয় গ্রেফতারী পরোয়ানা। তাছাড়া নিজের সময় ও অর্থ ব্যয় করে স্বাক্ষ্য দিতে এসে হুমকির মধ্যেও পড়তে হয় স্বাক্ষীদের। আর এসব কারণে মামলার স্বাক্ষীরা নির্দিষ্ট সময় আদালতে স্বাক্ষী দিতে না আসায় মামলার বিচার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। শুধু স্বাক্ষীদের কারনে বরিশাল আদালতে কয়েক হাজার মামলা ঝুঁলে রয়েছে। একাধিক মামলার বাদি অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তের সময় থেকেই তদন্ত কর্মকর্তাকে আসামি পক্ষ প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। বেশীর ভাগ সময় নিজেদের রক্ষা বা রিপোর্ট পক্ষে নিতে উৎকোচ দেয় তারা। এতেও কাজ না হলে তারা দারস্থ হন রাজনৈতিক নেতাদের। এসব চাঁপের কারণে তদন্ত কাজ ব্যহতসহ রিপোর্টে দেখা দেয় গড়মিল। এরপর শুরু হয় মামলার বিচার কাজ। অভিযোগ গঠনের পর স্বাক্ষীদের আদালতের ধার্য করা নির্ধারিত তারিখে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে নির্ধারিত তারিখে স্বাক্ষীরা নিজ থেকে বা পুলিশ তাদের হাজির করতে না পারায় আদালত পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করতে বাধ্য হন। পরবর্তী তারিখেও স্বাক্ষীরা হাজির না হলে আদালত আবারো সমন জারী করেন। স্বাক্ষীদের আদালতে হাজিরের সমন জারী করা হলেও আসামি পক্ষের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে তাদেরকে ওই সমন জানতে দেয়া হয় না। তবে এ ক্ষেত্রে বাদি যদি বিষয়টি জানতে পারেন তাহলে তিনি তার মামলার সুষ্ঠু বিচারের আশায় আদালত থেকে কাগজপত্র বের করে স্বাক্ষীদের নির্দিষ্ট তারিখে হাজির করান। আর বাদির কোন হস্তক্ষেপ না থাকলে স্বাক্ষী কোনভাবে জানতে পারেন না নির্দিষ্ট তারিখ। তবে ৩ থেকে ৪ বার সমন জারীর পরেও স্বাক্ষী না আসলে আদালত থেকে স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে জারী করা হয় গ্রেফতারী পরোয়ানা। তখন স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর কপি নিয়ে হাজির হন পুলিশ। স্বাক্ষী গ্রেফতার এড়াতে অর্থের মাধ্যমে পুলিশকে বিদায় দিয়ে নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হওয়ার অঙ্গিকার করে রক্ষা পান।
স্বাক্ষীদের অভিযোগ, র‌্যাব ও পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় তাদের ইচ্ছামত নাম লিখে নিয়ে স্বাক্ষী করা হয়। এ ক্ষেত্রে ওই বিষয়ে কিছু না জানা থাকলেও তাদেরকে স্বাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় স্বাক্ষী দেয়ার পূর্বে বাদি থেকে শুরু করে আসামি পক্ষের লোকজন এবং মামলার তদন্তকারী অফিসার ও আইনজীবীরা তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করে। আদালত প্রাঙ্গনে যাওয়ার পর স্বাক্ষ্য দেয়ার জন্য আইনজীবী ও পুলিশকে টাকা দিতে হয়। এরপর স্বাক্ষ্য দেয়ার পর হুমকির মধ্যে পড়তে হয় তার পরিবারকে। কিন্তু তাদের নিরাপত্তায় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। আদালতের বেঞ্চ সহকারীরা জানান, স্বাক্ষীদের উপস্থিত করার জন্য বারবার পুলিশকে বলাসহ স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করা হলেও তারা স্বাক্ষী হাজির করতে ব্যর্থ হয়। এছাড়াও বাদি মামলা করার পর থেকেই নিজেদের দায়িত্ব শেষ মনে করেন। তারা স্বাক্ষী হাজিরের পিছনে দায়সারা ভাব প্রকাশ করে কোন খোঁজখবর রাখেন না।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, একটি মামলা হওয়ার পর বিচারকার্য পর্যন্ত যেতে প্রায় এক থেকে দেড় বছর বা তারও বেশি সময় লাগে। এরপর স্বাক্ষ্যর জন্য প্রস্তুত হলে দেখা যায় স্বাক্ষীরা ঠিকানা বদল করে চলে গেছেন। কেউ বা ওইস্থানের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে অন্যস্থানে থাকেন। আবার যথাসময়ে তাদেরকে পাওয়া যায়না। কেউ কেউ স্বাক্ষ্য দিতেও অস্বীকৃতি জানায়। এসব কারনে অধিকাংশ স্বাক্ষীদের হাজির করা সম্ভব হয় না। এই খন্ডচিত্র ফৌজদারী মামলার। দীর্ঘসূত্রতার দিক থেকে ফৌজদারী মামলার সময়কালের চেয়ে কয়েকগুন বেশী সময় ব্যহত হয় দেওয়ানী মামলায়। মামলা দায়ের হলে চলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। ফলে বিচারপ্রার্থীরা দিনের পর দিন আদালতে এসে আইনজীবী ও তাঁদের সহকারীদের ফি দিয়ে মামলার পরবর্তী তারিখ নিয়ে বিষন্ন মনে বাড়ি ফিরতে হয়।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির জালাল আহমেদ জানান, বরিশাল জজ শীপের বিচারকের ১৭টি পদের মধ্যে ৪টি বিচারকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শুন্য রয়েছে। একজন বিচারক এক মাসেরও বেশী সময় ধরে রয়েছেন ছুটিতে। ফৌজদারী মামলার সেরেস্তাদার আ. কাদের জানান, জেলা জজ শীপে বিচারাধীন রয়েছে ২ হাজার ৯২৯টি ফৌজদারী মামলা। দেওয়ানী মামলার সেরেস্তাদার আবুল হোসেন জানান, জেলা জজ শীপের ১৭টি আদালতে ২৪ হাজার ৫৭৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অপরদিকে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অধীনে ১১ পদের সাতটি এবং চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৫টি পদের তিনটি দির্ঘদিন ধরে শুণ্য আছে। চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৮ হাজার ৫৪৪ এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ৫ হাজার ৫২৩টি। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে ২ হাজার ৫২০ মামলা, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ২ হাজার ৮৮৮টি, জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৪৫৬, বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে ৩১৬টি, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে ৩২টি, বিদ্যুৎ আদালতে ৬’শ, টিএন্ডটি আদালতে ৩৫০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে, বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। এ আদালতে বিচারাধীন মামলা রয়েছে মাত্র একটি। বাকী ৮টি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়ে রয়েছে। আইনজীবীরা জানান, অন্য আদালতগুলোতে মামলার স্তুপ জমলেও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মাত্র একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলা প্রেরণে জটিল প্রক্রিয়ার কারনে আদালতের কর্মচারীরা বেশীর ভাগ অলস সময় পার করছেন।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এ্যাডভোকেট লস্কর নুরুল হক জানান, প্রায় ক্ষেত্রেই পুলিশের দেয়া তদন্ত রিপোর্টে ত্রুটি দেখা দেয়। বাদি নারাজির প্রেক্ষিতে আদালত তা প্রত্যাখান করে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। এটাও মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারন। আর মামলায় প্রয়োজন ছাড়াই বেশী সংখ্যক স্বাক্ষী করা হয়। পরে বিচার চলাকালীন তাদের আর হদিস থাকেনা। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনিস উদ্দিন শহিদ জানান, বিভাগীয় শহর হওয়া স্বত্বেও বরিশাল আদালত অঙ্গনের কোন উন্নয়ন হয়নি। বিচারক সংকট, ভবন সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে মৌখিক ও লিখিত ভাবে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তার কোন সুফল পাওয়া যায়নি। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জিপি এ্যাডভোকেট কেবিএস আহম্মেদ কবির জানান, দেওয়ানী মামলার আইন অনেক পুরনো। দেওয়ানী আইনকে সময় উপযোগী করা দরকার। তা না হলে বিচার কাজ দ্রুত নিস্পত্তি করা কঠিন।
মামলার দীর্ঘসূত্রতার প্রসঙ্গে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাডভোকেট গিয়াসউদ্দিন কাবুল জানান, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে অপরাধের ধরন ও অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সে তুলনায় আদালত ও বিচারকের সংখ্যা বাড়েনি। জজ শীপের বিচারকের ১৭টি পদের মধ্যে ৪টি বিচারকের পদ দীর্ঘদিন ধরে ধরে শুন্য রয়েছে। একজন বিচারক এক মাসেরও বেশী সময় ধরে রয়েছেন ছুটিতে। বিচারক না থাকার কারনে যে বিচারকরা উপস্থিত আছেন তাদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকে। ফলে মামলার বিচার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে বিচারকদের শুন্য পদগুলো পুরণের জন্য উধর্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। স্বাক্ষীদের প্রসঙ্গে পিপি বলেন, আসামি পক্ষের প্রভাববিস্তার ও নিরাপত্তার কারনে তাদের আদালতে হাজির হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। পুলিশের ব্যর্থতার কথা উলে¬খ করে তিনি জানান, স্বাক্ষী হাজির করার দায়িত্ব পুলিশের। কিন্তু তারা সেই কাজটা করতে ব্যর্থ হয়। আইনজীবীদের স্বাক্ষ্য নিতে টাকা চাওয়া ও হুমকি সম্পর্কে তিনি বলেন, এমন কোন অভিযোগ আসলে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, অনেক সময় স্বাক্ষীরা আসামি পক্ষের দ্বারাও প্রভাবিত হয়ে আদালতে স্বাক্ষ্য দিতে আসে। এ স্বাক্ষ্য মামলার বা রাষ্ট্রপক্ষের জন্য ক্ষতি হয়ে থাকে। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে স্বাক্ষ্যগ্রহণ করা হয় না।
জেলা পুলিশ সুপার এস.এম আক্তারুজ্জামান বলেন, স্বাক্ষীদের নিজের টাকা খরচ করেই স্বাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হতে হয়। এ ক্ষেত্রে দুর দুরান্তে থাকা গরীব স্বাক্ষীরা স্বাক্ষ্য দিতে আদালতে আসতে চায়না। সেক্ষেত্রে স্বাক্ষীদের প্রতি আদালতের যে নির্দেশনা থাকে তাই পুলিশ পালন করে থাকেন।