বরিশালে হত্যার হুমকি দিয়ে মন্দিরে চিরকুট

124

বরিশাল অফিস ॥
“হত্যা কিলিং টার্গেট মিশন এবার বরিশালে অবস্থান করছে। বরিশালের সমস্ত মন্দিরের পুরোহিত এবং হিন্দু সংগঠনের নেতাদের মৃত্যু অনিবার্য। সকল হিন্দু ধর্মের নেতা, চাকুরিজীবি এবং সাধারণ নাগরিকদেরও একে একে হত্যা করা হবে। বরিশালের বিএনপির এক নেতা এবং আওয়ামীলীগের বর্তমান জনপ্রিয় নেতার সহযোগিতায় হত্যা ও টার্গেট কিলিং মিশন সফল করা হবে। পুলিশ র‌্যাব, আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী কেউ এই হামলা ও হত্যা ঠেকাতে পারবে না। হিন্দুরা বাঁচতে চাইলে ভারত চলে যাও।”
দক্ষিণাঞ্চলের দ্বিপ জেলা ভোলা ও সাগরপাড়ের বরগুনা জেলার একাধিক পুরোহিতকে হত্যার হুমকি দেয়ার পর এবার বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী পাষানময়ী কালিমাতার মন্দিরের পুরোহিতকে হত্যার হুমকি দেয়ার উল্লেখিত চিরকুটটি উদ্ধার করা হয়েছে। মন্দিরের প্রনামী থালা থেকে চিরকুট উদ্ধার করেন মন্দিরের পুরোহিতের স্ত্রী। শনিবার বিষয়টি পুরো নগরীতে ছড়িয়ে পড়লে এনিয়ে দিনভর গোটা নগরীতে আলোচনার ঝড় ওঠে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মন্দিরের পুরোহিতের স্ত্রী বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় মন্দিরে পূজা করতে আসায় মন্দিরের মূল দরজা খোলার পর প্রনামী থালায় তিনি একটি কাগজ দেখতে পান। পরে সেটি খুলে দেখতে পান মন্দিরের পুরোহিতকে হত্যার হুমকি মূলক একটি চিঠি। এরপরই বিষয়টি মন্দির কমিটিকে জানানো হয়। মন্দির সেবাইত দুলাল ভট্টাচার্য্য জানান, প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবারও দুপুর দুইটার পর মন্দিরের সদর দরজা বন্ধ করা হয়েছিলো। পরে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে মন্দিরের প্রনামী থালা থেকে উল্লেখিত চিরকুটটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় সাধারন ডায়েরী করেছেন মন্দিরের সেবাইত দুলাল ভট্টাচার্য্য। জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত দত্ত লিটু বলেন, বাংলাদেশ থেকে হিন্দু ধর্মের লোকজনকে বিতারিত করার জন্য একটি গোষ্ঠী এধরনের হুমকি দিচ্ছে। তিনি প্রতিটি মন্দিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোড়দার করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ্ মোঃ আওলাদ হোসেন জানান, বরিশালের সব মন্দিরেই আগে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরীজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। দুলাল ভট্টাচার্য্যর সাধারণ ডায়েরীর অনুসন্ধান চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।