বরিশালে স্বামী স্ত্রী হত্যার ঘটনায় আটক-১১

বরিশাল অফিস: বানারীপাড়া ও বাকেরগঞ্জ উপজেলায় একইদিনে নববধূসহ দুইজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ ১১ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের রবিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আজিজুর রহমান এজাহারের বরাত দিয়ে জানান, উপজেলার খেজুরা ভরপাশা গ্রামে ভাতিজাদের হাতে নিহত চাচা নিতাই চন্দ্র শীল (৫০) খুনের ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার হত্যাকান্ডের পর ওইদিন রাতে নিহতের স্ত্রী মুকুল রানী শীল বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর এজারহারভূক্ত আসামি নিহতের ভাতিজা খোকন, সজল, ইন্দ্র ও মাধব চন্দ্র শীলকে আটক করা হয়। সূত্রমতে, নিতাইয়ের সহদর গৌরাঙ্গ চন্দ্র শীলের শেষকৃত্তানুষ্ঠানের স্থান নির্ধারন নিয়ে ভাতিজা খোকন, সজল, ইন্দ্র ও মাধব শীলের সাথে বাগ্বিতন্ডা হয়। একপর্যায় তারা উত্তেজিত হয়ে নিতাইকে মারধর করে গলা চেঁপে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে।

বানারীপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক খান মামলার অভিযোগের বরাত দিয়ে জানান, দুই মাস আগে উপজেলার বেতাল গ্রামের শামীম হাওলাদারের সাথে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া গ্রামের মোশারেফ খানের কন্যা দিলরুবার বিয়ে হয়। ঘটনারদিন শুক্রবার দিলরুবা দম্পত্তি এবং তার মেঝ ননদ দম্পত্তি পাশ্ববর্তী ছলিয়াবাকপুর গ্রামের বড় ভাসুরের বাড়িতে বেড়াতে যায়। ওইদিন রাতে তারা নরোত্তমপুর গ্রামে স্থানীয় একটি মেলায় যায়। মেলা মাঠ থেকে নিরুদ্দেশ হয় দিলরুবা। রাত ১১টার দিকে মেলার পাশ্ববর্তী নির্জন রাস্তার পাশ থেকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা গৃহবধু দিলরুবার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় দিলরুবার স্বামী শামীম হাওলাদার, শ্বশুর আলম হাওলাদার, শ্বাশুড়ি মনোয়ারা বেগম, বড় বোন শিল্পী বেগম, মেঝ বোনজামাতা আল-আমিন এবং দেবর সুমন এবং লাশ উদ্ধারের সময় সন্দেহজনক ভাবে বরিশালের জুয়েলারী দোকানের কর্মচারী সুমনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় রবিবার সকালে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।