বরিশালে রাজনৈতিক ব্যানারে সংঘবদ্ধভাবে চড়াও ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ তকমায় সমঝোতা’র অভিলাষ কোন পথে?

17

আহমেদ জালাল : বরিশালে রাতের আধারে কোনো সরকারি কর্মকর্তার বাসভবনে রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যানারে সংঘবদ্ধভাবে চড়াও হওয়াটা কতটা অসভ্য আচরণ, ফৌজদারি অপরাধ? সরকারি কাজকর্মে বাধাদান একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এহেন ফৌজদারি অপরাধ করে প্রশাসনকে বাধ্য করার প্রবণতাকে ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ তকমা দিয়ে সমঝোতার প্রয়াস কিংবা অভিলাষ এ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায় কিনা? সংঘবদ্ধ এরকম অন্যায়কে যদি মেনে নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে সমস্যা কী কমে? অপরাধকে ধামাচাপা দেওয়ার কৌশলে যদি হয় সমঝোতার অভিলাষ, তাতে কী দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি বন্ধ হবে? দুর্বৃত্তায়নের এই চক্র কখনোই কী ভাঙার নয়? না-কি অন্যকিছু? অভিজ্ঞমহলের প্রশ্ন কাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সংঘবদ্ধ রাজনৈতিক ক্যাডার-মাস্তান তৈরি হচ্ছে? আবার এরাই দানবরূপে শহর চষে বেড়াচ্ছে? জনমনে আতঙ্কিতরা অবশ্যই ক্ষমতার সঙ্গে সম্পূক্ত। এসব অপরাধীর পেছনে থাকছে ক্ষমতাধর প্রভাবশালী মহল, যাদের প্রভাব বিস্তারে এসব অপরাধীকে ব্যবহার করছে। শহরের পাড়া-মহল্লা বা প্রত্যন্ত গ্রামে, পাড়ায় এরা ব্যাপক ক্ষমতাধর ; মূর্তিমান আতঙ্ক। এদের শেল্টারদাতারা যে ক্ষমতাসীন দলের নেতা বিষয়টি স্পষ্ট। ক্ষমতাবান হয়ে ওঠার এহেন ঘৃনিত ‘পদ্ধতি’তে জনভালোবাসা বা জনআস্থা দরকার হয় না। দরকার হয় ক্যাডার বাহিনি। আর বাহিনী পালনের জন্যে দরকার হয় অর্থ। নানান কায়দায় অবৈধপন্থায় সেই অর্থও আসে।
সমাজে যে যত বড় মাপের দুর্বৃত্ত, সে তত বড় ক্ষমতাবান। তারা অস্ত্রধারী, লাঠিয়াল বাহিনী কর্তৃক সমাজে ত্রাস সৃষ্টি করে। এই দুর্বৃত্তরা সন্ত্রাস সৃষ্টি করে, শুধু বিরুদ্ধ রাজনৈতিক দল নয়, নিজ দলেরও নেতা, কর্মী ও সমর্থক আর নিরীহ জনসাধারণকে ভীত সন্ত্রস্ত রেখে দলের ও নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু অবসান ঘটবে কী দুর্বৃত্ত রাজনীতির? বরিশাল থানা কাউন্সিল ও ইউওনও’র বাসভবনে ভয়ঙ্কর সেই রাতে কী ঘটেছিল? প্রশ্ন উঠেছে, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলাগুলো স্বাভাবিক নিয়মে শেষ হবে বা চলবে কিনা? শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের চারটি মামলাই যদি গতিহীন হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে বিস্ময়ের কিছু কী থাকবে? তবে জনমনের প্রশ্ন থাকবে ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় বেড়ে ওঠা এক শ্রেণির দুর্বৃত্ত ও অপরাধী চক্র কিভাবে বেপরোয়া হয়ে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতিতে লিপ্ত হয়ে পড়েন?
প্রশ্ন হচ্ছে-বর্তমান বরিশাল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদৃষ্টি ও বিচক্ষণতার ঘাটতি আছে কিনা? দলের মধ্যে নেতৃত্বে শূন্যতা রয়েছে কিনা? দলের ত্যাগী-নিবেদিত প্রাণ নেতাকর্মীদের বঞ্চিত-লাঞ্ছিত-নির্যাতন সহ সর্বোপরি অবমূল্যায়নের প্রশ্নও উঠেছে। বর্তমান বরিশাল আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে নিরবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ত্যাগী একাধিক নেতা। কমিটির নেতৃত্বে যোগ্য-অযোগ্যতার প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনসহ নানান শ্রেনী পেশার মানুষের মাঝে।
মূলত: গত ১৫ আগস্টের ‘জাতীয় শোক দিবস এর পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে বরিশালে বাকবিতণ্ডা, সংঘর্ষ, ইউএনও’র বাসভবনে হামলা পরবর্তীতে নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিবর্ষনের ঘটনায় দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা রূপ নেয়। অভিযোগ উঠে, বরিশাল নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র ইশারা-ইঙ্গিতে রাতের আধারে ইউএনও’র বাসভবনে হামলা চালায় তাঁর অনুসারীরা।
হামলার ঘটনার পর ১৯ আগস্ট রাতে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক বৈঠক শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁরা বলেছেন, ‘আইনের মাধ্যমেই দুর্বৃত্তদের মোকাবিলা করা হবে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বরিশাল বিভাগ মেয়রের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ করে তাঁর গ্রেপ্তার দাবিও জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও তাঁর দুর্বৃত্ত বাহিনী সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের দিয়ে নানা প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে ও বরিশাল ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে।’ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের এই বক্তব্য নিয়ে আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাদের (সাদিক আব্দুল্লাহ অনুসারী) মধ্যে নানান আলোচনা চলছে। দলটির নেতাদের প্রশ্ন, সিভিল প্রশাসন একজন নির্বাচিত মেয়রকে এভাবে বলতে পারেন কি না?
পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেছেন, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে এই বিবৃতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে বেশির ভাগ সচিব (তার মানে সবাই নন) এবং বিভাগীয় কমিশনাররা ওই বিবৃতির ভাষার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন। মাঠপর্যায়ে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারের দুই মন্ত্রী (স্থানীয় সরকার এবং তথ্য ও সম্প্রচার) সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তার বাসভবনে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা সরকার ‘নিরপেক্ষ’ দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছে। খুব শিগগির সমাধান হবে। এরপরই বরিশালে সমাঝোতার বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে বলা হয়, ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। বৈঠকে মামলার প্রধান আসামি মেয়র সেরনিয়াবাদ সাদিক আব্দুল্লাহ থাকলেও প্রধান বাদীরা কেউ ছিলেন না। মামলায় গ্রেপ্তারকৃত সকলেই ইতিমধ্যে জামিন পেয়েছেন।
এরকম পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাউর ঘটানো হয় যে, ১৯ আগস্টের ঘটনার জেরে ইউএনও-ওসিকে বদলি করা হয়েছে। আসলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইউএনওর বদলির আদেশ জারি করে গত ১০ আগস্ট ২০২১, অর্থাৎ ঘটনার আট দিন আগে। আর ওসিকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি হয় ১৯ আগস্টের দু’দিন আগে।
কিন্তু হাটে হাড়ি ভেঙ্গে দিলেন খোদ বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। গত ২৯ আগস্ট পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী (কর্নেল অব:) জাহিদ ফারুক শামিম এবং জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার আশ্রয়ণ প্রকল্পে পরিদর্শনে যান। প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আশ্রয়ণ নিবাসীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণের এই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেছেন, ‘জেলায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিত্ব করছেন জেলা প্রশাসক এবং উপজেলায় ইউএনও। ইউএনওর গায়ে কেউ আঘাত করলে তা প্রধানমন্ত্রীকে অপমানের শামিল।’ জেলা প্রশাসকের এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গন সহ মহল বিশেষে আলোচনায় আলোচিত হয়। এবং বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হন তিনি। যদিও সাদিক অনুসারীরা জেলা প্রশাসকের এরকম বক্তব্য মেনে নিতে পারছেন না!
প্রসঙ্গত, গত ১৮ আগস্ট বুধবার রাতে নগরের সিঅ্যান্ডবি সড়কে উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে প্রতিমন্ত্রীর ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী (কর্নেল অব:) জাহিদ ফারুক শামিম এর শোক দিবসের ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে বিসিসি’র কর্মী এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র অনুসারীদের সঙ্গে ইউএনও’র নিরাপত্তা কর্মীদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ঘটে। ইউএনও বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বলেছিলেন, রাত হয়ে গেছে, মানুষ জন ঘুমাচ্ছেন। পরের দিন আপনারা ব্যানার অপসারণের কাজটি করেন। অভিযোগ উঠে, এতে অগ্মিমূর্তিরূপ ধারণ করে বিসিসির কর্মী, আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা একপর্যায়ে আনসার সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ক্ষিপ্ত হয়ে ইউএনও’র বাসভবনে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ অনুসারীরা হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ আত্নরক্ষার্থে আনসার সদস্যরা গুলি চালাতে বাধ্য হন।
বাসভবনে হামলার পর ইউএনও মুনিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে শোক দিবস উপলক্ষে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামিম (এমপি)’র ব্যানার-পোস্টার লাগানো ছিল। রাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসব ছিঁড়তে আসে। রাতে লোকজন ঘুমাচ্ছে জানিয়ে তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বৃহস্পতিবার সকালে এগুলো ছিঁড়তে বলেন। এরপর তারা তাকে গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁরা ইউএনওর বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। রাতে দুই দফায় তারা হামলা চালিয়েছে বলেছিলেন ইউএনও মুনিবুর রহমান।
আর বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের দাবি, ব্যানার অপসারণ করতে গিয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইউএনও’র বাধার মুখে পড়েন। ইউএনও সবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে থাকেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে যান মেয়র। তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন ইউএনও। সাদিক অনুসারীরা বলছেন, নিয়মিত রুটিন ওয়ার্কের কাজ হিসেবে সেদিন উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়েছিল বিসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঘটনার পরে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন সাদিক আনুসারীরা।
ঘটনার পর সেদিন গভীর রাতে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ঘটনার অবশ্যই জোড়ালো তদন্ত চাইব এবং অবশ্যই আমরা আইনের আশ্রয় নেবো। মেয়র হিসেবে এভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব না। আমি মেয়র হিসেবে তাহলে ব্যর্থ। প্রধানমন্ত্রী আমাকে শপথ পরিয়েছেন, আমার বাবা আছেন তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, আমি আমার রেজিগনেশন লেটার দিয়ে দেবো। মেয়র বলেন, আপনার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়ে থাকলে আমাকে বলতে পারতেন। বরিশালে এতো বছরে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, যে এইভাবে আমাদের গুলি করা লাগবে। আবার শুনলাম যারা আহত হয়েছে তাদের গ্রেফতার করার জন্য মেডিক্যালে গেছে। তাহলে ঠিক আছে, অপরাধ হয়ে থাকলে তাদের হয়নি, আমি মেয়র মাথা পেতে নিলাম আমি রেজিগনেশন লেটার প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়ে দেবো।
ঘটনার পরবর্তীতে আহুত এক সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস বলেছিলেন, ‘একটি শান্ত শহরকে অশান্ত করতে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ইউএনওর বাসায় কেউ হামলা করেনি। এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। আমরা মনে করি, শোকের মাসে এটি একটি মানবতাবিরোধী কাজ। আমরা এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।’
ওই ঘটনায় ইউএনও ও পুলিশের পক্ষ থেকে মেয়রসহ আওয়ামী লীগের ছয় শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। পরবর্তী সময়ে মেয়রের পক্ষ থেকে ইউএনও এবং ওসিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হলে বিচারক পিআইবিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনিবুর রহমান, পুলিশের পক্ষে উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহজালাল মল্লিক, সিটি করপোরেশনে পক্ষে রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদার, প্যানেল মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল ইসলাম খোকন পাল্টাপাল্টি চারটি মামলা দায়ের করেন। এরমধ্যে ইউএনও ও পুলিশ কর্তৃক দায়েরকৃত উভয় মামলার প্রধান আসামী বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ অনুসারী ও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বরিশাল আদালতে দুটি মামলা করা হয়। মামলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনিবুর রহমান, কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম আসামি হয়েছেন।
পরিশেষে তদন্তে বহুল আলোচিত-সমালোচিত ঘটনা উন্মোচন করা হোক। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে যথোপযুক্ত বিচার করা হােক। শান্তিপ্রিয় মানুষ আশা করে, বরিশালে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া সকল অপরাধের যৌক্তিক বিচার হবে। ঘটনার পরে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের পরিবর্তে বরিশাল শহর যে ময়লার ভাগারে পরিণত করা হয়েছিল, সেই বিষয়েও দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করা হোক।
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক ও বার্তা প্রধান, রণাঙ্গণের মুখপত্র ‘দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’।
মেইল : ahmedjalalbsl@gmail.com

*মতামত বিভাগে প্রকাশিত সকল লেখাই লেখকের নিজস্ব ব্যক্তিগত বক্তব্য বা মতামত।