কল্যাণ কুমার চন্দ,বরিশাল থেকেঃ জেলার বানারীপাড়া উপজেলার সন্ধা নদীর সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের মসজিদবাড়ির দাসের হাট এলাকায় যাত্রীবাহি এমএল ঐশি-২ নামের একতলা লঞ্চটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধাকারী জাহাজ “নির্ভিক” সন্ধা নদীর ৬০ ফুট নিচে তলিয়ে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করেছে। লঞ্চ দুর্র্ঘটনার কারন অনুসন্ধ্যান করার জন্য বৃস্পতিবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ সদস্য’র একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
“নির্ভিকের” চৌকস ডুবুরি মোঃ ইমাম হোসেন জানান, এসময় লঞ্চের ভিতর থেকে রিয়াদ, মাইশা রব্বি ও সাথোয়ান নামের ৪ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের বয়স ৬ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। এনিয়ে লঞ্চ ডুবির ঘটনায় ১৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী এখনো ৭ জনের নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হলেও তা মানতে নারাজ নিখোঁজ ব্যাক্তিদের স্বজনরা। উদ্ধার কাজের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাকির হোসেন বলেন, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে তল্লাশী চলছে।
মসজিদ বাড়ি,দাশেরহাট ও জিরাকাঠি এলাকার বেচে যাওয়া যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে আনুমানিক ৭০জন যাত্রী নিয়ে বানারীপাড়া থেকে উজিরপুরের হাবিবপুরগামী একতলা লঞ্চ ঐশী-২ বুধবার বেলা সারে এগারোটার দিকে ভাঙনের কবলে পরে সন্ধা নদীর মসজিদবাড়ির দাসের হাট এলাকায় ডুবে যায়। খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানার পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ, কোষ্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ এবং বরিশাল জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। ওইদিন রাতে খুলনা থেকে নৌ-বাহিনীর ১৪ জন সদস্য উদ্ধার কাজে যোগ দেয়। বরিশাল থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ “নির্ভিক” বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশনিয়ে সকাল সাড়ে আটটার দিকে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি নদী থেকে ওপরে তুলে আনে।
বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডুবে যাওয়া একতলা লঞ্চটি ৩৬ ফুট লম্বা আট ৮ ফুট প্রশস্ত। এর কোন রুট পারমিট বা ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করার কারণেই এ দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি ধারণা করছেন। উদ্ধার অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা বলেন, এই ধরণের অবৈধ নৌ-যানে যাত্রী বহনের কিংবা চলাচলের বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএ’র দায়িত্বরতদের দেখভাল করা উচিত ছিল। ওই কর্মকর্তাদের গাফিলতির জন্য সন্ধা নদীতে এতোবড় নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে। এজন্য তারা দায়ি ব্যক্তিদের বিচারেরও দাবি করেন।
অপরদিকে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্য মোঃ জিয়াউল হাসান জানিয়েছেন নিখোঁজদের সন্ধ্যানে আজও সন্ধা নদীর পাড়ে স্বজনদের আহাজারিতে ওই এলাকার আকাশ বাতাস ভাড়ি হয়ে উঠলেও অবৈধ ভাবে চলাচলকারী ঐশি লঞ্চের মালিক (মৃত রব হাওলাদারের দুই ছেলে) বানারীপাড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে বসবাসকারি মোঃ ইউসুফ আলী ও জাকির হাওলাদারকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৬টা) কোথাও খুঁজে পাাওয়া যায়নি,তবে তাদেরকে গ্রেফতারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রযেছে।