বরিশালে ডাকাত আতংকে গ্রামবাসীর রাত জেগে পাহারা

49

বরিশাল অফিস ॥
বরিশালের বিভিন্ন উপজেলায় চোর ও ডাকাত আতংকে রাত জেগে পাহারা বসিয়েছেন গ্রামবাসী। গত ২২ নভেম্বর উজিরপুর উপজেলার হারতা বাজারের মৎস্য আড়তে ফিল্মিস্টাইলে ডাকাতি সংঘঠিত হওয়ার পর চরম উৎকন্ঠা বিরাজ করছে জেলার অন্যান্য বাজার ও বন্দরগুলোতে। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, হিজলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
সূত্রমতে, ডাকাতিকালে একাধিক বাড়িতে গণধর্ষনের ঘটনা ঘটলেও সামাজিক অবস্থানের কারনে ভূক্তভোগী পরিবারগুলো মুখ খুলছেননা। এসব ডাকাতির ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও ডাকাত আতংক কাটছেনা। ফলে উপায়অন্তুর না পেয়ে গ্রামবাসী নিজেদের নিরাপত্তার নিজেরাই দেয়ার জন্য গত এক মাস ধরে রাত জেগে পাহারা বসিয়েছেন। এমনকি এলাকার চিহ্নিত চোর কিংবা ডাকাতদের আটক করে থানা পুলিশের কাছেও সোর্পদ করছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত পহেলা নভেম্বর আগৈলঝাড়ার ছয়গ্রাম এলাকার সেলিম হাওলাদারের গৃহে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এরপূর্বে ২৪ অক্টোবর একই গ্রামের আতাউর রহমান হাওলাদারের গৃহে, ৩০ অক্টোবর সেরাল গ্রামের জাকির হোসেনের গৃহে, ৭ অক্টোবর সেরাল গ্রামের আব্দুল হক সন্যামতের গৃহে, গত ২৩ নভেম্বর বাবুগঞ্জের আগরপুরের একটি বেসরকারি অফিসে, একমাস পূর্বে গৌরনদী উপজেলার উত্তর বিল্বগ্রাম এলাকার পলাশ খানের গৃহে, দক্ষিণ বিল্বগ্রামের কাদের তালুকদারের গৃহে ও গৌরনদী হাইওয়ে থানা সংলগ্ন স্থানের মা ও মনি জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘঠিত হয়। এছাড়াও গৌরনদী মিউচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংক থেকে বাসষ্ট্যান্ড যাওয়ার পথে প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে বিকাশের বিক্রয় প্রতিনিধির কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এরপূর্বে হিজলার মাছ বাজারে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘঠিত হয়।
শুক্রবার রাতে সরেজমিনে গৌরনদী উপজেলার প্রত্যন্ত জঙ্গলপট্টি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চোর ও ডাকাত আতংকে গত একমাস ধরে ওই এলাকার ইউপি সদস্য শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে লাঠিসোটা নিয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। একত্রিতভাবে গ্রামের ২০/২৫ জন যুবক দলবদ্ধভাবে গ্রামঘুরে পাহারা দিচ্ছেন। এছাড়াও মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ওই ইউনিয়নের সবকটি গ্রামে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আত্মগোপনে থাকা ওই ইউনিয়নের চিহ্নিত ডাকাত শরিফুল ইসলাম ওরফে শহিদুল মৃধা, আক্তার খন্দকার ও বার্থী ইউনিয়নের নন্দনপট্টি গ্রামের নান্নু মৃধাকে গ্রামবাসী আটক করে পুলিশের হাতে সোর্পদ করেছেন। উজিরপুর থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আক্তার খন্দকার হারতায় ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার দেয়া স্বীকারোক্তিমতে উজিরপুর উপজেলার যুগিরকান্দা গ্রামের সুমন নামের আরও একজনকে আটক করেছে পুলিশ। অপরদিকে আগরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই শাহজাহানের বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকা ঘুষগ্রহণের মাধ্যমে মোস্তাফিজুর রহমান পিয়াল নামের এক আটককৃত চিহ্নিত চোরকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে শনিবার সকালে বিক্ষোভ করেছেন ওই এলাকার শত শত গ্রামবাসী।
সচেতন নাগরিকদের মতে, গ্রেফতারের পর কয়েকদিন কারাভোগ করে চোর ও ডাকাত দলের সদস্যরা জামিনে বেড়িয়ে পূর্ণরায় তাদের পেশায় এবং মাদক সেবীরা নেশার টাকা জোগার করতেই চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার এস.এম আক্তারুজ্জামান বলেন, এলাকাবাসীর জানমালের নিরাপত্তা দেয়াসহ চুরি ও ডাকাতিরোধে প্রতিটি থানার ওসিদের কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।