বরিশালে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

বরিশাল অফিসঃ ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা জেলার গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের আম বাগানে চৈতালী হাওয়ায় দুলছে বিভিন্ন প্রজাতির আমের গুটি। বাগান মালিক প্রতিনিয়ত তার আম বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এবার আম বাগানে ভাল মুকুল আসার পর এখন গাছে আমের গুটি চৈতালী হাওয়ায় দুলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গতবারের চেয়ে চলতি মৌসুমে কয়েকগুন বেশি ফলন পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বাগান মালিক। ওই গ্রামের আলী মোহাম্মদ হাওলাদারের এইচএসসি পাশ করা বেকার ছেলে আবু বকর চাকুরির পিছনে হন্য হয়ে ঘুরে ব্যর্থ হয়ে গত পাঁচ বছর পূর্বে নিজেদের এক একর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির আম গাছ রোপন করেন।
আবু বকর জানান, প্রথমে জমিতে বেড করে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে উন্নত জাতের ২৪টি আম গাছ সংগ্রহ করে রোপন করা হয়। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ১২৫টি আম গাছ রোপণ করা হয়েছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তিনি তার বাগান থেকে ফলন পেতে শুরু করেছেন। এবছর তার বাগানে আম্রপালি, মল্লিকা, হিমসাগর, ডগমাই, পালমাই, টিউজাই, খীশাপাত, সুরমা ফজলি প্রজাতির ৯২টি আম গাছে থোকায় থোকায় বিপুল পরিমান আমের গুটি ঝুঁলছে। আম বাগানের মালিক আবু বকর বলেন, বাগানে বিভিন্ন ছত্রাক ও ক্ষতিকর পোকা মাকড় থেকে রক্ষা পেতে এখন বাগানে বালাইনাশক স্প্রে করা হয়। তিনি আরও জানান, গত মৌসুমে তার বাগানের ৫০টি আম গাছ থেকে অর্ধলাখ টাকার আম বিক্রি করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তা কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে। ফরমালিনযুক্ত আম বর্তমান বাজার দখল করায় ক্রেতারা আবু বকরের বাগান থেকেই সম্পূর্ণ ফরমালিনমুক্ত আম ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু জানান, শুধু চাকরি বা ব্যবসা করেই যে স্বাবলম্বী হওয়া যায় তা ঠিক নয়; যার প্রমাণ দিয়েছে আবু বকর। ফরমালিনমুক্ত ফল উৎপাদনের জন্য মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে সফল ফলচাষী আবু বকরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ্য করেন।