বরিশালের হিজলায় চর দখল নিয়ে সংঘর্ষে নিহত-১ ॥ আহত ১৫

কল্যান কুমার চন্দ,বরিশালঃ বরিশালের হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের চরআবুপুর গ্রামে চরের খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে বোমা হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও বসত ঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে ভূমিদস্যুরা। হামলায় মোসলেম সরদার নামের একজন নিহত ও কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে। হামলার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার সকালে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী, আহত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চরআবুপুর মৌজায় জেগে ওঠা চরের ১২ শ’ একর জমি সরকারের এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত। সরকার সম্প্রতি ওই জমি থেকে ১৮০ জন ভূমিহীনদের মাঝে দেড় একর করে বন্দোবস্ত দেয়ার পর ভূমিহীনরা বাড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। সেই জমি পৈত্রিক সম্পত্তি দাবি করে আসছে চরআবুপুর গ্রামের উত্তরপাড়ের বাসিন্দা মান্নান সিকদারের পুত্র সোহরাব সিকদার ও তার সহযোগীরা। এনিয়ে দক্ষিণপাড়ের বাসিন্দা ইউপি সদস্য মজিবর রহমান সরদারের গ্রুপের সাথে সোহরাব গংদের দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে হিজলা থানার এসআই জাকির হোসেন জানান, শুক্রবার সকাল নয়টায় সোহরাব সিকদার ও ছালাম মুন্সীর নেতৃত্বে ঢাকা থেকে ভাড়া করাসহ ২/৩ শত সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চারটি ট্রলারযোগে চর দখল নিতে আসে। এ সময় প্রতিপক্ষ মজিবর রহমানের সমর্থকেরা তাদের প্রতিহত করতে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে সোহরাবের লোকজনে চরআবুপুর গ্রামের মুজিব বাজারে ভূমিহীন শাহ আলম ঢালী, মোসলেম সরদার, চান্দু হাওলাদার, আলী দেওয়ানের ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাদের কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রাখে। ওইসময় সন্ত্রাসীরা বাজারে বোমা ফাঁটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ১৫/২০টি দোকান ভাংচুর করে লুটপাট চালায়। পরে সন্ত্রাসীরা চরআবুপুর গ্রামের ২০টি বাড়িতে ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট এবং কুপিয়ে কয়েকজনকে আহত করে। হামলাকারীরা ভূমিহীনদের মালামাল, ১০টি গরু, ২০টি ছাগল লুট করে নেয়। এসময় তারা সায়েদ সরদারের পুত্র জাকির সরদারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। সংবাদ পেয়ে হিজলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে প্রথমে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। গুরুতর আহত মোসলেম সরদার, চান্দু হাওলাদার, শাহআলম ঢালী, আলীম দেওয়ানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করার পর শেবাচিমে চিকিৎসাধীন মোসলেম সরদার (৭০) ওইদিন সন্ধ্যায় মারা যায়।
এ ব্যাপারে হিজলা থানার ওসি মাসুদুজ্জামান জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলমান রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ নিয়ন্ত্রনে আনতে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে শুক্রবার রাতে হামলার ঘটনায় জড়িত শাহাদাত সিকদার, মিরাজ সরদার ও হারুন মুন্সীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার সকালে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।