বরিশালের জল্লায় বহিরাগতদের আনাগোনায় আতংকে কাটাচ্ছেন সংখ্যালঘু ভোটররা

41

কল্যাণ কুমার চন্দ,বরিশাল থেকেঃ
বহিরাগতদের আনা গোনায় উজিরপুরের জল্লা ইউনিয়নে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটাররা উদ্বেগ,উৎকণ্ঠা ও আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে অস্রধারী বহিরাগতরা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জল্লা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেওয়ায় ওই এলাকার নিরীহ সাধারন মানুষরা অজানা আতংকে রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে কুরালিয়া গ্রামে এক বাড়িতে গভীর রাতে দুবৃর্ত্তরা হানা দিয়ে এক বৃদ্ধকে মারধর করে তার এস এস সি পরীক্ষার্থী মেয়েকেও নির্যাতন করেছিল। সেই আতংক এখনও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে ওই এলাকার কয়েকটি পরিবারকে। উজিরপুরে জল্লা ইউনিয়নের আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উর্মিলা বাড়ৈ অভিযোগ করেন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের ভাই মিল্টন তার বাহিনী নিয়ে প্রতিনিয়ত জল্লার বিভিন্ন এলাকায় হানা দিচ্ছে। তার সাথে থাকা ২০/৩০টি মটর সাইকেলে অপরিচিত যুবকরা ঢুকছে জল্লা ইউনয়নের বিভিন্ন অলিগলিতে। তাদের ভয়ে ওই ইউনিয়নের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা আতংকিত হয়ে নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ন হবে কিনা, তা নিয়ে সংসয় প্রকাশ করেছেন। তার ভোটার ও সমর্থকদের নানা ভাবে হুমকী দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জল্লা ইউনিয়নের একাধীক শ্রেনী পেশার মানুষ অভিযোগ করেছেন ভোট কারচুপি করার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানের ইকবালের ইচ্ছামত নির্বাচন কমিশন পার্শবর্তি ওটরা ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারী ও বে-সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রিজাইডিং অফিসার,সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ করানো হচ্ছে,যাতে করে জল্লা ইউনিয়নে ইকবালের ঘনিষ্টজন ও আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে যে কোন মূল্যে চেয়ারম্যান বানানোর জন্য নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োগকৃত ওই সকল কর্মকর্তারা ভোট কারচুপি করার ক্ষেত্রে ব্যাপক সহায়তা করবেন বলে জল্লা ইউনিয়ন বাসীর মধ্যে একটি আতংক তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্র্থী মিজানুর রহমান জানিয়েছেন বহিরাগতদের আনাগোনায় সাধারন ভোটাররা বেশ চিন্তিত। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষে প্রশাসনকে জল্লায় বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর হতে হবে, তা না হলে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেনা।
উল্লেখ্য যে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উজিরপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল জল্লা ইউপি চেয়ারম্যান উর্মিলা বাড়ৈকে একাধিক বার লাঞ্চিত করেছিলো, ওই বিরোধের রেশ ধরেই জল্লায় উর্মিলা বাড়ৈকে ইকবাল তার ব্যাক্তিগত আক্রোশ পুরন করার জন্য আওয়ামীলীগের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করেছে। উর্মিলা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বে-কায়দায় পরেছেন ইকবাল, যে কারনে ইকবাল -উর্মিলার প্রেস্টিজ লড়াইয়ে পরিনত হয়েছে জল্লার ইউপি নির্বাচন। এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্য মোঃ নূরুল ইসলাম পিপিএম জানিয়েছেন ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে কেউ যাতে বাধা দিতে না পারে সেদিকে তাদের নজর রয়েছে,বহিনাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনিয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।