বরিশালের এক কিলোমিটার মহাসড়কের বেহাল দশা

47

কল্যান কুমার চন্দ,বরিশাল থেকেঃ সাম্প্রতিক সময়ের প্রবল বর্ষণে নগরীর ব্যস্ততম একটি সড়ক ও মহাসড়কের মাত্র এক কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা। এছাড়াও ভাড়ি যানবাহন সড়কের মধ্যে আটকে (ডেবে) গিয়ে শুরু হয় ঘন্টার পর ঘন্টা দীর্ঘ যানজট। অথচ যানবাহন চলাচলের ব্যস্ততম এ সড়ক দুটি সংস্কারের জন্য নেই কোন উদ্যোগ।
সূত্রমতে, বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের সাগরদী বাজার থেকে রুপাতলী হয়ে দপদপিয়া সেতুর ঢাল পর্যন্ত এবং খোঁদ নগরীর বান্দরোডের এক কিলোমিটার মহাসড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত রয়েছে। দীর্ঘদিনেও সড়ক ও মহাসড়কের খানাখন্দের অংশ মেরামত না হওয়ায় প্রতিদিনই ঘটছে অসংখ্য দূর্ঘটনা। যানবাহন খাদে আটকে পরে বিকল হওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মহাসড়কের মধ্যে ডেবে যাওয়া যানবাহন উদ্ধারের জন্য পুলিশের উদ্ধারকারী যান রেকার ব্যবহার হচ্ছে। সূত্রে আরও জানা গেছে, বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কের খানাখন্দের ওইঅংশ দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা থেকে যাত্রীবাহি পরিবহন, মালবাহী ট্রাক পটুয়াখালীসহ কুয়াকাটা, বরগুনা, ঝালকাঠী, পিরোজপুর জেলার বিভিন্নস্থানে যাতায়াত করছে। আসন্ন ঈদ-উল আযজহা উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নগরীসহ জেলার বিভিন্ন হাটে গরু বোঝাই ট্রাক আসা যাওয়া করছে। সেক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় সড়কের মাঝে পরিবহন কিংবা মালবোঝাই ট্রাক বিকল হওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রোকনউজ্জামান জানান, অতিবর্ষণের কারণে সড়কের এ বেহাল দশা হলেও তা সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্টদের কোন উদ্যোগ না থাকায় ক্রমেই ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট রাজিব আহমেদ জানান, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পণ্যবাহী একটি ট্রাক রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মহাসড়কের মাঝখানে আটকে (ডেবে) যায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত উদ্ধারের জন্য কাজ করে ট্রাকের চালক ও শ্রমিকেরা। কিন্তু কোন ফলাফল না হওয়ায় রেকার দিয়ে আটকে পড়া ট্রাকটি উদ্ধার করতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে একাধিকবার এ সড়কের বিভিন্ন অংশে মালবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহি পরিবহন খাদে পড়ে আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকেও সড়ক বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দরা জানান, জরুরি ভিত্তিতে খানাখন্দের এক মহাসড়টি সংস্কার করা না হলে আসন্ন ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে সড়ক পথে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের বহনকারী পরিবহনগুলোকে দূর্ঘটনার স্বীকার হওয়ার আশংকা রয়েছে। এ ব্যাপারে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ শাহেদ বলেন, আগামি ২/১ দিনের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়ক সংস্কারের মাধ্যমে যান চলাচলের উপযোগী করার জন্য শ্রমিকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।