বন্যার্তদের জন্য সরকারি তৎপরতা দেখছে না বিএনপি

যুগবার্তা ডেস্কঃ দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের কোনো ‘কার্য্কর পদক্ষেপ দৃশ্যমান’ নেই বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি।
মঙ্গলবার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “দেশে এখন ভয়াবহ বন্যা চলছে। এতো বড় বন্যা হয়েছে যে এটা অনেক জায়গায় আটাশি সালের বন্যাকে অতিক্রম করেছে। এই বানভাসী মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্য্কর পদক্ষেপ এখনও দৃশ্যমান নয়। এটা শুধু দুর্ভাগ্যজনকই নয়, নিন্দনীয়ও। আমরা এর নিন্দা করছি।”
ত্রাণের অভাবে বন্যার্ত মানুষ দুঃসহ জীবন-যাপন করছে বলেও অভিযোগ করেন নজরুল।
উত্তরাঞ্চেলের বিভিন্ন জেলার পর দেশের মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করেছে। বানের পানিতে ভাসতে শুরু করেছে ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, রাজবাড়ীর নতুন নতুন এলাকা।
সোমবার পর্যন্ত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য মতে, গোয়ালন্দ, ভাগ্যকুল ও সুরেশ্বর পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার যথাক্রমে ১০০, ৬০ ও ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
মধ্য জুলাই থেকে বন্যায় দেশের ১৬ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে, যাতে এ পর্যন্ত ২১ জন মারা গেছে বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানালেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে মৃতের সংখ্যা ৪২ জন।
সরকারি হিসাবে, এ পর্যন্ত বন্যায় ১৬ জেলার ৭২টি উপজেলার ৩৭৮ ইউনিয়নের ছয় লাখ ৩৪ হাজার ৪০৯টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্তের পাশাপাশি আট হাজার ১৪০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে।
দলের ডাকে সাড়া দিয়ে নেতাকর্মীরা সীমিত সামর্থ্য নিয়েও বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন বলে নজরুল ইসলাম বলেন।
এবারের বন্যার ভয়াবহতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটা স্বাভাবিক বন্যা নয়। উজানের বৃষ্টির পানি দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলেই এই বন্যা। যদি উজানের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতো তাহলে অল্প বৃষ্টিতে এত ভয়াবহ বন্যা হতো না।”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আহমেদ আজম খান, খায়রুল কবির খোকন, আবদুল খায়ের ভুঁইয়া, আবদুস সালাম আজাদ, শিরিন সুলতানা প্রমুখ।