বঙ্গবন্ধু হত্যার স্মৃতিচারন করে কাঁদলেন তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল কাহার

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: যুদ্ধ-পরবর্তী প্রেক্ষাপট নিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে স্মৃতিচারন করলেন মুক্তিযোদ্ধা ও অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল কাহার আকন্দ । একইসাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরলেন এবং ৭৫ এর ১৫ আগস্টে ঘাতকের হাতে নিমমভাবে নিহতের প্রেক্ষাপটের স্মৃতিচারন করে কাঁদলেন সিআইডির (অবঃ) অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল কাহার আকন্দ। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান তদন্তকারি কর্মকর্তা ছিলেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় কটিয়াদি উপজেলার গচিহাটা বাজারে মুক্তিযোদ্ধাদের ঈদ পুনর্মিলনীও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রধানকালে সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাহার আকন্দ বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) একপর্যায়ে কাঁদে ফেলেন।

কটিয়াদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসরাফিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মো. মুশতাকুর রহমান, কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা লায়ন মো. আলী আকবর, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মান্নান ও সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম আকন্দ।
আবদুল কাহার আকন্দ বলেন, পুলিশে চাকুরী জীবনে বহু মামলার তদন্ত করেছি। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা মামলার তদন্তকালে দেশদ্রোহী ও ঘাতকদের বহু অপকর্মের প্রমান পেয়েছি। এই হত্যাকান্ডের পর বঙ্গবন্ধু কণ্যাদ্বয় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনাকে দেশে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। ১৫ আগস্টে পিতা মা ও পরিবার পরিজনকে হারিয়ে অতিকষ্টে জীবন যাপন করেছেন। আজকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় স্বজনের অভাব নেই। কিন্তু দুঃ সময়ের বন্ধু ও আশ্রয়দাতা পাশে থাকা মানুষগুলোই প্রকৃত মানুষ, বন্ধু।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের বননা দিতে গিয়ে এবং নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অনুষ্ঠানে হাও মাও করে কেঁদে ফেলেন পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তা। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্যদেরও চোখের জ্বল মুছতে দেখা গেছে।

সভায় বক্তারা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে আপামর মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। অনেক রক্ত ও ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। এখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করতে হবে। সেজন্য মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ঐকবদ্ধ থাকতে হবে।

অনুষ্ঠান আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন বাদশা, চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের সাবেক ডিজিএম বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহাবুদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা জামির হোসেন, প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিলন, এপিবিএন এর সহকারী পুলিশ সুপার মাজহারুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাহার আকন্দ এর মেয়ে ডা. ফারজানা শমি, জেলা মাদক বিরোধী সংগঠনের সভাপতি ইবনে আব্দুল্লাহ শাহজাহান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি লুৎফর রহমান রানা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কটিয়াদী উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।