বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের শক্তি চিহ্নিত করতে ‘কমিশন’ গঠন করতে হবে-মেনন

যুগবার্তা ডেস্কঃ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে যারা জড়িত তাদের তাদের চিহ্নিত ও ষড়যন্ত্র উদঘাটনে একটি ‘কমিশন’ গঠন করতে হবে। ৭৫’র ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ঘটনাকে সেনাবাহিনীর একটি অংশের উচ্চাভিলাশী পরিকল্পনা হিসেবে অভিতিক করেন অনেকে। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়, ফিরে আসে সেই ঘৃণা, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় উন্মদনা যা মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের সংবিধানের মূল নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। হত্যাকান্ডের পর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত খোন্দকার মোশতাক বাংলাদেশকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন।
মন্ত্রী আজ বুধবার সকালে গণপূর্ত ভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১ তম শাহদত বার্ষিকী উপলক্ষে ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান খান হান্নান।
মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন আরও বলেন, এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়, বঙ্গবন্ধু হত্যা ছিলো মুক্তযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে দেশের গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতাকে সমূলে উৎপাটন করার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত। এই চক্রান্তের ধারা আজও অব্যাহত। অনেক দুর্গম ও রক্তাক্ত পথ পেরিয়ে দেশে আবারও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ পরিচালিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অন্তহীন প্রয়াস অব্যাহত। এ ধারাকে কেউ আর যাতে চক্রান্তের মাধ্যমে ব্যাহত করতে না পারে সে জন্য বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের শক্তিকে চিহ্নিত করে দেশবাসির কাছে তাদের মুখোশ উন্মোচনের জন্যই কমিশন গঠন প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে বাংলার মাটি থেকে মুছে দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন। সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বঙ্গবন্ধু আজও মানুষের হৃদয়ে অম্লান। তাঁকে শুধু স্মরণ নয় অনুসরণও করতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নই হবে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন।