বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরকারীও গৌরনদী পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী

75

কল্যাণ কুমার চন্দ,বরিশাল থেকে ॥ আধিপত্য বিস্তারের লক্ষে সরকারি অফিসে হামলা চালিয়ে অফিসে টাঙ্গানো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুরের নেতৃত্বদানকারী বহুল বিতর্কিত বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার বর্তমান মেয়র হারিছুর রহমান এবারও দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দলের হাইকমান্ডের কতিপয় প্রভাবশালী নেতাকে ম্যানেজ করে মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন বলে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে পৌর এলাকার সাধারন ভোটার থেকে শুরু করে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নির্যাতিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত পৌর নির্বাচনে হারিছুর রহমান উড়ে এসে জুড়ে বসা পাখির মতো মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আ’লীগের নেতাকর্মীদের দমন করা বহুল বির্তকিত বিএনপি ও জামায়াতের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দলে ঢুকিয়ে নিজের আধিপত্য বিস্তারের জন্য একের পর এক সরকারি অফিস ভাংচুর, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, নিজের অনুগত্য নয় এমন দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে ওইসব সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম, ছাত্রলীগ নেতা রুমান ও রাসেলকে কুপিয়ে হত্যা, ঠিকাদারী কাজে কমিশন বানিজ্যসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পরেন। হারিছুর রহমান প্রকাশ্যে নেতৃত্ব দিয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, ডিগ্রি কলেজ, মসজিদ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় হারিছুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তার (হারিছ) বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা আ’লীগের একাধিক সিনিয়র নেতারা জানান, দলীয় প্রতীকের এবারের পৌর নির্বাচনে দলীয়ভাবে মনোনয়ন বাছাইয়ে ভুল করে কোন বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হলে তার প্রভাব পরবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। আর এক্ষেত্রে দলের দুর্দীনের নেতাকর্মীরা নিস্কিয় হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। সেক্ষেত্রে দুর্দীনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের মধ্য থেকে মূল্যায়ন করে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা জোর দাবি করেছেন।