ফেল্‌প্‌স ২০০০ বছর পুরোনো রেকর্ড ভাঙলেন !

যুগবার্তা ডেস্কঃ সুনির্দিষ্ট করে বললে ২১৬৮ বছর। রেকর্ড গড়াই নাকি হয় ভাঙার জন্য। ভাঙেও। তাই বলে এত বছর পুরোনো রেকর্ড কেউ কখনো ভেঙেছে নাকি! মাইকেল ফেল্‌প্‌সের সৌজন্যে সেই অবিশ্বাস্য ঘটনারও সাক্ষী হলো পৃথিবীবাসী। প্রাচীন অলিম্পিকে লিওনিদাস অব রোডস খ্রিষ্টপূর্ব ১৫২ সালের অলিম্পিকে ১২তম ব্যক্তিগত সোনা জিতেছিলেন। আধুনিক অলিম্পিকে ১৩টি ব্যক্তিগত সোনা জিতে সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন জলদানব।
এবারের অলিম্পিকে চতুর্থ সোনাটিও ফেল্‌প্‌স জিতে নিলেন ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে। সব মিলিয়ে তাঁর সোনার সংখ্যা হলো ২২টি। মোট পদকের সংখ্যা ২৬। দুটি করে ব্রোঞ্জ আর রুপাও যে আছে। তবে ফেল্‌প্‌সের ২২টি সোনার ৯টি দলীয় অর্জন, রিলে সাঁতারে পাওয়া। দ্বিতীয় খ্রিষ্টপূর্বাব্দে দলীয় লড়াইয়ের ধারণাটিই ছিল না।
সে সময় লিওনিদাস ১৫৪, ১৫৫, ১৫৬ ও ১৫৭তম অলিম্পিকে টানা চার আসরে ১২টি ব্যক্তিগত সোনা জেতেন। এতগুলো বছরেও যে কীর্তি ভাঙতে পারেনি কেউ। অবশেষে ‘লাকি থারটিন’তম সোনা জিতে ২০০০ বছর পর সেই রেকর্ড ভাঙলেন কেউ। এও যেন সেই বার্তা, মানুষ কী না পারে!
সে সময় লিওনিদাস স্তাদিওন আর দিয়াউলস নামের ইভেন্টে লড়তেন। যেগুলো আধুনিক কালের ২০০ ও ৪০০ মিটার দৌড়ের মতো ছিল। আরেকটি ইভেন্ট ছিল, হপলিতদরোমস, যেটা দিয়াউলস ইভেন্টটির মতো হলেও এখানে একটা ব্রোঞ্জের অস্ত্র ও ঢাল নিয়ে দৌড়াতে হতো।
১৬৪ থেকে ১৫২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে লিওনিদাস এই তিন ইভেন্টের প্রত্যেকটিতেই সোনা জিতেছিলেন। চার আসরে জেতেন মোট ১২টি সোনা। সেই রেকর্ডটা ভাঙতেই ২ হাজার বছর সময় লেগে গেল।
এবার ফেল্‌প্‌সের এই কীর্তি ভাঙতে কি অপেক্ষা করতে হবে আরও ২০০০ বছর? তখন মানুষই কি অলিম্পিকে লড়বে, নাকি রোবট!