ফের আসছে রাজনৈতিক দল ‘বাকশাল’!

124

যুগবার্তা ডেস্কঃ আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলসহ সব মহলে চলছে আলোচনা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধনে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো ঘর গোছাচ্ছে। আর যারা নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে তারা ব্যস্ত নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে। সম্প্রতি ইসিতে নিবন্ধন নেয়ার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আনাগোনা বাড়তে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর রক্তস্নাত রাজনৈতিক দল দাবি করে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) ইসির নিবন্ধন পাওয়ার জন্য আবেদন পত্র জমা দিয়েছে।
ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) চেয়ারম্যান শরীফ মো. আমীরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার কাছে পাঠিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর রক্তস্নাত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) উল্লেখ করে সিইসির কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, যে শর্তের ওপর ভর করে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন দেয়া হয়, প্রথম শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। ১৯৮৬ সালে জাতীয় নির্বাচনে বাকশালের পক্ষ থেকে তিনজন ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও এমপি নির্বাচিত হন। চিঠিতে আরো বলা হয়, ইতিপূর্বে দেশে যখন রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয় তখন প্রথম ভাগে বাকশাল নিবন্ধিত হয়েছিল। কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় ব্যক্তিগত আক্রোশ ও খামখেয়ালিপনায় তৎপরবর্তী সিইসি এটিএম শামসুল হুদা দলটির নিবন্ধন বাতিল করেন। যা ছিল সম্পূর্ণ রূপে নির্বাচন কমিশনের আইনের পরিপন্থী। অত্যন্ত লজ্জার বিষয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে স্বাধীনতার ¯’পতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ও তার রক্তস্নাত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সেই বহুল আলোচিত রাজনৈতিক দলটিকে নিবন্ধন দেয়া হয়নি।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘ইতিপূর্বে ২০১৪ সালের ২০ আগস্ট দলের নিবন্ধন চেয়ে একটি আবেদন করেছিলাম, তার প্রেক্ষিতে পরের মাসের (সেপ্টেম্বর) ১৭ তারিখে সহকারী সচিব রৌশন আরা স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দিয়ে জানানো হয়- রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য যখন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হবে তখন আবেদন করতে হবে। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, জেলা পরিষদ এমনকি আইন পরিষদের সদস্যদের মৃত্যুজনিত কারণে অনেক উপনির্বাচন হয়েছে। নিবন্ধন না থাকায় আমরা কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি না। আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই বগুড়ায় জনসভা থেকে শুরু করে যেখানেই সভা করছেন সেখানেই তিনি নৌকা মার্কায় ভোট চাচ্ছেন। এহেন পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মনে করি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশার হিসেবে অনতিবিলম্বে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধনের জন্য পত্রিকায় আপনার বিজ্ঞাপন দেয়া উচিত।’
সিইসির কাছে পাঠানো চিঠিতে বঙ্গবন্ধুর অবদানের স্বীকার করে বলা হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন এবং সেই কারণে আজ চৌকিদার, দফাদার থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত সবাই আমরা বাঙালি। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার জন্য বঙ্গবন্ধু তার দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন এবং সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) নামক নতুন রাজনৈতিক দল করেছিলেন। কী নির্মম এবং নিষ্ঠুর আচরণ জাতির জনকের প্রতি, তার হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে বাকশালের প্রতি বৈমাতৃসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। চিঠিতে তিনি বঙ্গবন্ধুর রক্তস্নাত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) নিবন্ধনের জন্য সিইসির দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন।
নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের বিষয়ে কমিশনের কোনো উদ্যোগ আছে কি-না জানতে চাইলে ইসির জনসংযোগ পরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান বলেন, কমিশন এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। কমিশন সিদ্ধান্ত নিলে এ বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে। তখন কেউ চাইলে নতুন দলের জন্য আবেদন করতে পারবেন।-মানবকণ্ঠ