ফাদার রিগন বাংলা ভাষাকে মাতৃভাষা মনে করে সম্মান করতেন

মোংলা থেকে মো: নূর আলমঃ ফাদার মারিনো রিগন বাংলা ভাষাকে নিজের মাতৃভাষা মনে সম্মান ও মর্যাদা দিতেন। চব্বিশ বছর বয়সে তিনি বাংলাদেশে এসে মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। ফাদার রিগন দরিদ্রতা এবং অশিক্ষার বিরুদ্ধে সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। সরকারী ব্যবস্থাপনায় ইতালি থেকে ফাদারের মরদেহ এনে রাস্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হলো এবং এটা তাঁর প্রাপ্য ছিলো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে ফাদার রিগনের অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিলো। রবিবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মাঠে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, কবি, অনুবাদক ও শিক্ষানুরাগী ফাদার রিগনের প্রতি শেষ নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় খুলনা সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এ কথা বলেন।

রবিবার সকাল ১০টায় নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম। নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইতালিয়ান রাস্ট্রদূত মারিয়ো পালমা, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস, পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, বিশপ রমেন ˆবরাগী, সাবেক সচিব ড. নমিতা হালদার, লেঃ কর্নেল (অবঃ) কাজী সাদাত আলী, ইতালিতে বাংলাদেশ মিশনের কনস্যুলেটেড ইকবাল আহমেদ, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (ডিবি) কামরুল ইসলাম, ফাদার রিগনের ভাইয়ের ছেলে শবদেহের আসা মারিনো ক্যাবিস্ত্রো, উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার ও মোংলা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সুনিল কুমার বিশ্বাস, মোংলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম সরোয়ার, সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সভাপতি ফ্রান্সিস সুদান হালদার, রƒপান্তরের স্বপন গুহ, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি সেখ আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক সেখ আব্দুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফকির আবুল কালাম, সেন্ট পল্স ধর্মপল্লীর পালক পুরোহিত ফাদার শিরাফিন, মোংলা প্রেসক্লাব সভাপতি এইচ এম দুলাল, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব হাসান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ নূর আলম শেখ, প্রভাষক মাহাবুবুর রহমান, সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস, ডি. মারিনো মন্ডল, ক্রিস্টিনা মুকুল সরকার প্রমূখ।

অন্যদিকে ফাদার রিগনের মরদেহ নিয়ে ইতালি থেকে আসা তার্কিশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটটি রবিবার ভোর ৫টায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরন করে। সকাল সাড়ে ৮টায় বিমান বন্দর থেকে সরাসরি ফাদার রিগনের মরদেহ বহন করা হেলিকপ্টার মোংলা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে সকাল পৌনে ১০টায় অবতরন করে। সেখানে খুলনা সিটি মেয়ার তালুকদার আব্দুল খালেক, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস, পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় এবং উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম ফাদার রিগনের মরদেহ গ্রহণ করেন। সেখান থেকে মটর শোভাযাত্রা সহকারে ফাদার রিগনের মরদেহ উপজেলা পরিষদ মাঠে আনার পর রাস্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এর পৌনে ১২টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষ ফাদার রিগনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন। সেখান থেকে ফাদার রিগনের মরদেহ সেন্ট পল্স হাসপাতাল এবং সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়ে য্ওায়া হয়। সবশেষে বিকেল ৩টায় সকল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফাদার রিগনকে তাঁর অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ি সেন্ট পল্স গীর্জার সামনে সমাহিত করা হয়।

উল্লেখ্য ২০১৪ সালে অসুস্থ হয়ে পড়লে ফাদার রিগনকে চিকিৎসার জন্য ইতালি নেয়া হয়। ২০১৭ সালের ২০ অক্টোরব ইতালিতেই ফাদার রিগন মৃত্যুবরন করেন। মৃত্যুও এক বছর পর তাঁকে বাংলাদেশে এনে সমাহিত করা হলো।