ফাদার রিগনের মস্তকে ছিলো রবীন্দ্রনাথ আর অন্তরে লালন

মোংলা অফিসঃ ফাদার রিগনের মস্তকে ছিলো রবীন্দ্রনাথ এবং অন্তরে ছিলো লালন। মানুষ হওয়া এবং মানুষকে ভালোবাসার বাণী তিনি প্রচার করতেন। যাজকীয় জীবনের বাইরে বাংলাদেশে তিনি ব্যস্ত ছিলেন যাত্রা, কীর্তন, নগর কীর্তন, পালাগান, কবিগানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড নিয়ে। ধর্মজীবন এবং শিল্প জীবনকে ফাদার রিগন পৃথক ভাবে দেখতেন না। মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, অনুবাদক, কবি, সাহিত্যিক ও শিক্ষানুরাগী ফাদার মারিনো রিগনের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে মোংলা সরকারি কলেজ মিলনায়তনে ২০ অক্টোবর শনিবার সকালে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের স্মরণ সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

শনিবার সকাল ১১টায় স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের অন্যতম নেতা সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস। স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ সুনিল কুমার বিশ্বাস, অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম সরোয়ার, ফ্রান্সিস সুদান হালদার, শেলাবুনিয়া ধর্মপল্লীর পালক পুরোহিত শেরাফিন সরকার, সেখ হেমায়েত হোসেন ও অধ্যক্ষ আবু সাইদ খান।

স্মরণ সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহবায়ক মোঃ নূর আলম শেখ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রভাষক মনোজ কান্তি বিশ্বাস, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনীন্দ্র নাথ হালদার, ডি. মারিনো মন্ডল, রাজনীতিক উৎপল মন্ডল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রশান্ত রায়, শেখ আব্দুল জব্বার, রিপন, জাহিদ হোসেন প্রমূখ।

ফাদার রিগনের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে মোংলায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ছাড়াও মোংলা সরকারি কলেজ, সেন্ট পল্স ধর্মপল্লী, ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের নানা কর্মসুচি পালন করে।

উল্লেখ্য এক বছর পর আজ রবিবার সকালে ফাদার রিগনের মরদেহ ইতালি থেকে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। রবিবার সকাল ৯টায় মোংলা উপজেলা প্রশাসন কতৃক উপজেলা পরিষদ মাঠে নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান শেষে তাঁকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান শেষে সেন্ট পল্স গীর্জার সামনে ফাদার মারিনো রিগনকে সমাহিত করা হবে।