ফাঁসির আসামি ২১ জঙ্গির সাজা দ্রুত কার্যকর করতে উদ্যোগ

50

যুগবার্তা ডেস্কঃ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ২১ জঙ্গির মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিচারিক আদালতে ফাঁসির দণ্ড হওয়ার পর এদের অনেকের হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণের (ডেথ রেফারেন্স) শুনানি চলছে। এসব জঙ্গিরা জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ—জেএমবি ও হরকাতুল জিহাদের (হুজি-বি) নেতা-কর্মী।
২০০৭ সালে জেএমবির প্রতিষ্ঠাতাসহ ছয় নেতার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর দেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের জন্য আর কারও ফাঁসি কার্যকর হয়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের সাজা কার্যকর হলে অন্য জঙ্গিদের মধ্যে ভীতি তৈরি হতো।
আইনসচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসব সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করতে যে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন আমরা নিচ্ছি। আমরা তো চাই মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া সব জঙ্গির সাজা দ্রুত কার্যকর হোক।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি সারা দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা ৪৮১ জন জঙ্গির তালিকা করেছে। এদের মধ্যে ২১ জন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। জঙ্গিদের ফাঁসি কার্যকর করার ক্ষেত্রে বিলম্বের কারণ কমিটি চিহ্নিত করেছে।
২১ জঙ্গির ফাঁসির রায় কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছি দ্রুত এদের মামলা নিষ্পত্তির ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ব্যবস্থা নিতে। এ ছাড়া অন্য জঙ্গিদের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করার বিষয়ে তাগাদা দিয়ে যাচ্ছি।’ পর্যায়ক্রমে জঙ্গিদের বিচার শেষ করার ব্যাপারে তৎপরতা চালানো হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কী কারণে আদালতের রায় বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হয়েছে বা হচ্ছে সেটিও দেখা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা করা ২১ জন জঙ্গির মধ্যে রয়েছেন মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সি, শরিফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, আদনান সামী ওরফে আম্বার ওরফে জাহাঙ্গীর, তৈয়বুর রহমান ওরফে হাসান, আশরাফুল ইসলাম ওরফে আরশাদ ওরফে আব্বাস, এনায়েত উল্লাহ ওরফে জুয়েল ওরফে ওয়ালিদ, মামুনুর রশিদ ওরফে জাহিদ, আসাদুজ্জামান ওরফে পনির, আক্তারুজ্জামান, মালেক হোসেন ওরফে মালেক জিহাদি ওরফে মালেক ব্যাপারী, কামারুজ্জামান ওরফে স্বপন, আবদুল্লাহ আল সোহাইল ওরফে আল ফারুক ওরফে জাহিদ ওরফে জাহাঙ্গীর ওরফে আকাশ, সাইফুল ইসলাম রাসেল, মাওলানা আকবর হোসেন ওরফে হেলালউদ্দীন, আমজাদ আলী ওরফে মো. হোসেন, মসিদুল ইসলাম মাসুদ ওরফে ভুট্টো, নিজামউদ্দিন রেজা ওরফে রনি ওরফে রবি, সাইফুল মুনশি ওরফে শহীদুল মুনশি ওরফে ইমন, আরিফুর রহমান আরিফ ওরফে আকাশ ওরফে হাসিব।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রথম আলোকে বলেন, জঙ্গিদের ডেথ রেফারেন্সের শুনানি দ্রুত করার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যা যা করণীয় তার সবই করা হবে।
২০০৭ সালের ২৯ মার্চ রাতে জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আবদুর রহমান এবং শীর্ষস্থানীয় নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, খালেদ সাইফুল্লাহ, আতাউর রহমান (সানি), আবদুল আউয়াল, ইফতেখার হাসান আল মামুনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়। এরপর আর কোনো জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর হয়নি।
কারাগার সূত্র জানায়, বন্দীদের সঙ্গে ১৫ দিন পর পর স্বজনদের সাক্ষাতের সুযোগ রয়েছে। সেটি জঙ্গিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিবাদের বিস্তারের ঘটনায় আটক জঙ্গিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাতের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।প্রথম আলো