ফরজ গোসলের নিয়ম

121

যুগবার্তা ডেস্কঃ
গোসল আমাদের নিত্যদিনের একটি অংশ। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য গোসল করে থাকি। কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে একাদকি বার্ও হয়। কিন্তু পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশ্যে গোসলের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানতে হয়। তা না হলে পবিত্রতা অর্জন হয় না। আবার কিছু কিছু কারণে গোসল করা ফরজ। এ বিষয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
গোসল ফরজ হওয়ার কারণ
যে কাজগুলোর জন্যে গোসল করা ফরজ হয়, ১. জাগ্রত বা নিদ্রা অবস্থায় উত্তেজনার সাথে বীর্যপাত হলে। তবে নিদ্রা অবস্থায় উত্তেজনার অনুভব না হলেও গোসল করা ফরজ। কারণ, নিদ্রাবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে অনেক সময় বোঝা যায় না। এ প্রসঙ্গে মহানবী সা. বলেন, ‘পানি নির্গত হলেই পানি ঢালতে হবে’। [মুসলিম শরীফ, অধ্যায় : হায়েয।] অর্থাৎ বীর্যের পানি নির্গত হলেই গোসল করতে হবে। ২. স্ত্রী সহবাস। সহবাসের ক্ষেত্রে স্ত্রীর যৌনাঙ্গে পুরুষাঙ্গের সর্বনিম্ন আগাটুকু প্রবেশ করালেই গোসল ফরজ হয়ে যাবে। এ প্রসঙ্গে মহানবী সা. বলেন, ‘স্ত্রীর চার শাখার (দু’হাত দু’পায়ের) মাঝে বসে, তার সাথে সহবাসে লিপ্ত হলেই গোসল ফরজ হবে’। [বুখারী শরীফ, অধ্যায়: গোসল; মুসলিম শরীফ, অধ্যায়: হায়েয।] যদিও বীর্যপাত না হয়। ৩. নারীদের ঋতু বা নেফাস (সন্তান প্রসোবত্তোর স্রাব) হওয়া। ঋতুবতী নারীর স্রাব বন্ধ হলে, গোসলের মাধ্যমে তাকে পবিত্র হতে হবে। এ গোসলও ফরজ গোসলের অন্তর্ভুক্ত। কেননা আল্লাহপাক বলেন, ‘তারা তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েজ সম্পর্কে। বলে দাও, এটা অপবিত্র। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রী মিলন থেকে বিরত থাক। ততোক্ষণ পর্যন্ত তাদের সাথে সহবাসে লিপ্ত হবে না; যতোক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তমরূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন করো তাদের কাছে। যেভাবে আল্লাহ্ তোমাদের হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারী এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের পছন্দ করেন’। (সুরা বাক্বারা : ২২২) মহানবি সা. ইস্তেহাজাবিশিষ্ট নারীকে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘ঋতুর নির্দিষ্ট দিনসমূহ সে বিরত থাকবে তারপর গোসল করবে’। নেফাস থেকে পবিত্র হওয়ার ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিধান। তার উপরও গোসল করা ফরজ।
হায়েয ও নেফাস থেকে গোসল করার পদ্ধতি নাপাকী থেকে গোসল করার পদ্ধতির অনুরূপ। তবে বিদ্বানদের মধ্যে কেউ ঋতুবতীর গোসলের সময় বরই পাতা ব্যবহার করা মুস্তাহাব বলেছেন। কেননা এতে অধিক পরিস্কার ও পবিত্র হওয়া যায়। বরই পাতার বদলে সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার করলেও উক্ত উদ্দেশ্য হাসিল হয়।
ফরজ গোসলের সঠিক পদ্ধতি
১.মনে মনে জানাবত (স্ত্রী-সঙ্গম, স্বপ্নদোষ,ঋতুগ্রাব ও প্রসব ইত্যাদি নিমিত্ত যে নাপাকি) দূর করার নিয়ত (নাওয়াইতুল গোসলা লিরাফয়িল জানাবাতি। অর্থাৎ, নাপাকি দূর করার জন্য গোসল করছি।) করা; ২. শুরুতে লজ্জাস্থানে লেগে থাকা নাপাকি ধুয়ে ফেলা; ৩. তারপর সাবান বা অনুরূপ কিছু দিয়ে হস্তদ্বয় ধৌত করা; ৪. অতঃপর নামাজের অজুর ন্যায় পূর্ণাঙ্গ অজু করা; ৫. এরপর পানি দিয়ে তিনবার মাথা ভিজানো; ৬. তারপর প্রথমে শরীরের ডান অংশে এবং পরে বাম অংশে পানি ঢালা; ৭. তারপর সারা দেহে পানি ঢালা ও ৮. গোসল শেষে দোয়া পড়া।
গোসলের ফরজ
গড়গড়া কুলি করা; ২. নাকে পানি দেয়া ও ৩. এরপর সারা দেহে পানি ঢালা।

গোসলের সুন্নত
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গোসল করা; ২. ক্রম বজায় রাখা; ৩. প্রথমে ওজু করা; ৪. দু হাতের কব্জি পর্যন্ত ধোয়া; ৫. শরীর থেকে নাপাকি ঘষে দূর করা; ৬. মেছওয়াক করা ও ৭. সারা দেহে তিনবার পানি ঢালা।

গোসলের মুস্তাহাব
উঁচু স্থানে বসে গোসল করা যাতে পনি গড়িয়ে যায় ও গায়ে ছিটা না লাগে; ২. পানির অপচয় না করা; ৩. বসে গোসল করা; ৪. লোক সমাগম স্থানে গোসল না করা; ৫. পাক জায়গায় গোসল করা ও ৬. ডান থেকে শুরু করা ।