প্রাণের জুসে মশা-শ্যাওলা

101

যুগবার্তা ডেস্কঃ প্রাণ ম্যাঙ্গো জুসের ২৫০ মিলিলিটারের সিল করা কাঁচের বোতলের ভেতর শ্যাওলা, মশা, পিঁপড়া ও সিগারেটের শেষ অংশসহ অপদ্রব্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রাণের স্থানীয় ডিলারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার ১৯ এপ্রিল বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা ফয়লা বাজারের একটি দোকানে প্রাণের জুসে এসব অপদ্রব্য পাওয়া যায়।
এদিকে, প্রাণ ফুড এন্ড বেভারেজের বহুল প্রচলিত ওই শিশু পণ্যটিতে এমন অপদ্রব্য পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা রোধে বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মনিটরিং আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিব কুমার রায় জানান, উপজেলার গৌরম্ভা বাজারের একটি দোকানে প্রাণ ম্যাঙ্গো জুসের সিপি লাগানো কাঁচের বোতলে শ্যাওলা, সিগারেটের শেষ অংশ, মশাসহ বিভিন্ন অপদ্রব্য পাওয়া যায়। অপদ্রব্য পাওয়া ওই পণ্যটি মেয়াদ উত্তীর্ণও ছিল।
বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে অপদ্রব্যযুক্ত মেয়াদ উত্তীর্ণ ওই জুসটি উদ্ধার করেন তিনি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অপদ্রব্য পাওয়া এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সরবরাহের দায়ে প্রাণ ম্যাংগো জুসের স্থানীয় ডিলার গোলাম মোস্তাফিজুর রহমানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. অরুণ চন্দ্র মন্ডল বলেন, শিশুখাদ্যের মাঝে এমন অপদ্রব্য এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বাজারে থাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এসব খাবার খেলে শিশু বা পূর্ণ বয়স্ক যে কারোরই ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন অসুখ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রাণ তো দাবি করে তারা বড় ব্র্যান্ড। তাদের পণ্যে এমন অপদ্রব্য পাওয়া খুবই দুঃখজনক। আমাদের অনেকে তো ব্র্যান্ড মনে করে আস্থার সাথে এ ধরনের বড় কোম্পানির পণ্য কিনে থাকে।
স্থানীয় পর্যায়ে যেহেতু এ ধরনের পণ্যে কোন পরীক্ষা বা যাচাইয়ের সুযোগ নেই, তাই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ইউএনও রাজিব বলেন, এ ধরনের ঘটনার জন্য প্রথমবারের মতো সতর্ক করে ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ৪২, ৫১ ও ৫৩ ধারায় ওই ডিলারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।