প্রস্তুত রায়েরবাজার কবরস্থান

55

যুগবার্তা ডেস্ক: রাজধানীর রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের পেছনে দেশের সবচেয়ে বড় কবরস্থানের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই কবরস্থানটি আগামী মার্চের শেষদিকে খুলে দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর এটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেয়া হবে।নান্দনিক পরিকল্পনায় তৈরি রায়েরবাজারের এ কবরস্থানে একসঙ্গে প্রায় ৮৫ হাজার মরদেহ কবর দেয়া যাবে। কৌতূহলবশত অনেক দর্শনার্থী নতুন এ কবরস্থানটি দেখতে আসেন। কবরস্থানের তত্ত¡াবধান করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক এ ব্যাপারে জানিয়েছেন, নতুন এই কবরস্থানটি অনেক সুন্দর পরিকল্পনায় তৈরি করা হয়েছে। সকালে নগরবাসী কবরস্থানে প্রাত:ভ্রমণে যেতে পারবে। আশা করি, কবরস্থানটি দেখে সবার ভালো লাগবে।
তিনি বলেন, নিজের কবরের জায়গা কিনতে পারিনি। আমার কবরের জায়গা আমার বাবা কিনে রেখেছেন। যাই হোক, রায়ের বাজারে বিশাল কবরস্থান হয়েছে। এর পুরোটুকু ভরতে অন্তত ১৫ বছর লাগবে। উত্তর-দক্ষিণ ভাগ করে নয়, সামগ্রিকভাবে নগরীর সুবিধা বিবেচনা করে এই উদ্যোগ।
উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, রায়েরবাজার কবরস্থান প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ৫৪৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। মোট জমির পরিমাণ ৯৬ দশমিক ২৩ একর। মূল কবরস্থান ৮১ দশমিক ৩০ একর। প্রকল্পে মূল কবরস্থান ছাড়াও রয়েছে দুইটি লেক, হাঁটাপথ, দুইটি মসজিদ, জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাঁচ একর জায়গা। এছাড়া ৬ দশমিক ১৩ একর জমিতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-২) কার্যালয় রয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, এখনও ১৫ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। তবে অতি দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। কবে খুলে দেয়া হবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য কবরস্থানটি খুলে দেয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে একাধিক সূত্র জানায়, আগামী মার্চেই নতুন কবরস্থানটি খুলে দেয়া হতে পারে।
২০১০ সালের জুলাই মাসে ‘রায়ের বাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থান উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে এ প্রকল্পটি হাতে নেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। উত্তর সিটির অর্থায়ন এবং উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের ৫-আর ই ব্যাটালিয়ন। ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষের শহর ঢাকায় উত্তর সিটির আওতায় আটটি কবরস্থান থাকলেও চালু আছে মাত্র চারটি। মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডিতে কোনো কবরস্থান নেই। কবরস্থানটি ঘুরে দেখা যায়, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ লাগোয়া এ কবরস্থানটি খুব পরিপাটিভাবে তৈরি হচ্ছে। লেকের পাড় ধরে রয়েছে হাঁটার জন্য বাঁধানো পথ। আছে ফুলের বাগান। লেকে রয়েছে স্বচ্ছ পানি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কবরস্থানের চারপাশে সুউচ্চ লাল ইটের সীমানা প্রাচীর গড়ে তোলা হয়েছে। প্রবেশের তিনটি ফটক তৈরির কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সবুজ ঘাস বিছানো পথ দেখলে মন জুড়িয়ে যায়।

জানা যায়, কবরস্থানের ভেতর লেকের ওপর তিনটি সংযোগ সেতু তৈরি করা হয়েছে। শিশুদের কবর দেয়ার আলাদা জায়গাও রাখা হয়েছে। খানিক পরপর আছে বাতি। পাঁচ স্থানে পানি ও শৌচাগারসহ ‘সুবিধা কেন্দ্র’ রয়েছে। কবরস্থানে লোকজনের আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বছিলা ব্রিজ পর্যন্ত ১২০ ফুট প্রস্থ একটি রাস্তা তৈরি করেছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহ উল ইসলাম বলেন, রায়েরবাজার কবরস্থানের কাজ প্রায় শেষ। ইতিমধ্যে আমরা লোকবল নিয়োগ দিয়েছি। মেয়র বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। উনি দেশে আসলেই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, রাজধানী ঢাকায় কবরের সংকট দীর্ঘ দিনের। কবর সংকট থাকার কারণে একই কবরে বছর ঘুরতে না ঘুরতে একাধিক লাশ কবর দেয়ার ঘটনাও ঘটে। এ যাবতকালে ঢাকার সবচেয়ে বড় কবরস্থান রয়েছে আজিমপুরে। এটি ‘আজিমপুর কবরস্থান’ নামে পরিচিত। সেখানেও আর স্থান সংকুলান হচ্ছেনা।

এই প্রেক্ষাপটে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা রায়ের বাজার কবরস্থান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে প্রকল্পটি স্থগিত রাখা হয়। পরে মহাজোট সরকারের সময় কবরস্থান প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়।ইত্তেফাক