প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা না হলে সংবাদশিল্প হোঁচট খাবে-তথ্যমন্ত্রী

12

যুগবার্তা ডেস্কঃ প্রস্তাবিত বাজেটে সংবাদশিল্পের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এ শিল্পকে রক্ষার স্বার্থেই প্রস্তাবিত ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে।

তা না হলে গত ৯ বছরে গণমাধ্যমের যে বিকাশ ও প্রসার ঘটেছে তা থমকে যাবে। সংবাদশিল্প হোঁচট খাবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চারটি চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সঠিক সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা রুখে দেওয়া, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা ও জামায়াতি জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদকে ক্ষমতার বাইরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ।

এক লাখ নয়, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক আমানত আবগারি শুল্কমুক্ত রাখার দাবি জানান ইনু। তিনি বলেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের কথা চিন্তা করে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত আবগারি শুল্কমুক্ত রাখা হোক। ভ্যাট-পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি তাঁর কাছে সঠিক মনে হয় না। কারণ এ পদ্ধতি ধনী ও দরিদ্রকে এক পাল্লায় মাপে।

অর্থমন্ত্রীর সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, ‘অর্থনীতির চাকাকে সফল বলবেন, আর অর্থমন্ত্রীকে ব্যর্থ বলবেন—এটা হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শক্রমেই তিনি বাজেট দিয়েছেন। তাই ঢালাওভাবে তাঁর সমালোচনা করা ঠিক হবে না। ’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভ্যাট আইন, আবগারি শুল্ক ও সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানো নিয়ে অনেকে অর্থমন্ত্রীকে দোষারোপ করছেন। কিন্তু এই তিনটি বিষয়ই বাজেট নয়। বাজেটে আরো অনেক বিষয় আছে। এ বাজেট দিকবদলের ধারাবাহিকতার বাজেট। এত বড় বাজেট উত্থাপন জাতীয় সক্ষমতার পরিচয়।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ইনু বলেন, ‘রাজনীতিতে যুদ্ধ রয়েছে। অর্থনৈতিক যুদ্ধও চলছে। এবার যদি রাজনৈতিক যুদ্ধে হেরে যাই, তাহলে অর্থনৈতিক যুদ্ধ পরাজিত হবে। তাই রাজনৈতিক যুদ্ধে আমাদের বিজয়ী হতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে বলব, সামনে নির্বাচন। শত্রু-মিত্রকে চিহ্নিত করতে হবে। ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিন। বন্ধুদের কাছে রাখুন। শত্রুদের কোনো ছাড় দেবেন না। ’

সম্প্রচার আইনের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে

ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্য ‘সম্প্রচার কমিশন’ গঠনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘সম্প্রচার আইন-২০১৬’-এর খসড়ার চূড়ান্ত পরিমার্জনা চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে সরকার ‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪’ প্রণয়ন করেছে বলেও জানান তিনি।

গতকাল সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব তথ্য জানান। আওয়ামী লীগের সদস্য বজলুল হক হারুনের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। গত সাত বছরে সাত শতাধিক পত্রিকার নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৩১টি স্যাটেলাইট চ্যানেল, ২৪টি এফএম বেতার ও ৩২টি কমিউনিটি রেডিওর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ইনু জানান, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট গত সাত বছরে ১৬ হাজার একজন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। আর জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট একই সময়ে দুই হাজার ২৫৫ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০১৪-এর আওতায় ইতিমধ্যে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট বিধিমালা-২০১৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। ট্রাস্টের তহবিলের জন্য সরকার পাঁচ কোটি টাকার ‘সিডমানি’ দিয়েছে। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৯৬ জন দুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিকে এবং প্রয়াত সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে এক কোটি ৪০ লাখ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।-কালেরকন্ঠ