“প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০১৬-১৭ঃ জাসদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া”

143

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি আজ রবিবার সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০১৬-১৭ এর উপর দলের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন দলীয় সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি। উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন দলীয় সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি। উপস্থিত ছিলেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মীর হোসাইন আখতার, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন, সহ-সভাপতি এড. শাহ জিকরুল আহমেদ, এড. হাবিবুর রহমান শওকত, শফি উদ্দিন মোল্লা, শহীদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন খান জকি, নুরল আখতার, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, রোকনুজ্জামান রোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুন্নবী, মাহবুবা আখতার লিপি প্রমূখ।
গত ২ জুন মহান জাতীয় সংসদে জাতীয় বাজেট ২০১৬-১৭ উপস্থাপন করা হয়েছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে নিম্নোক্ত পর্যবেক্ষণ সরকার ও অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের মনযোগ আকর্ষণের জন্য উপস্থাপন করেছেন।
অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতি হাতে হাত ধরে অগ্রসর না হলে সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত ও টেকসই হতে পারে না। ১৪ দল ও মহাজোট সরকার দেশকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে পরিচালনার সাথে সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির শত্রুদের মোকাবেলার যে রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনা করছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুবিধা জনগণের সকল অংশের জন্য, বিশেষত অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া অংশের জন্য, নিশ্চিত করতে না পারলে সে রাজনৈতিক অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়বে। কেননা, আধুনিক নিরাপত্তার ধারণা অনুসারে জাসদ মনে করে, যে কোন বাইরের শত্রুর চেয়ে দারিদ্র্যের মতো অভ্যন্তরীণ শত্রু একটি দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য অধিকতর ক্ষতিকর।
সরকারের রূপকল্প ২০২১ একটি রাজনৈতিক দলিল। এ রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের জন্য একটি পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২০২১ ও এর অধীনে দুটি- ষষ্ঠ ও সপ্তম- পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)। জাসদ এর আগে সংসদে দাবি জানিয়েছিল যে পরামর্শক ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রণীত জাতীয় পরিকল্পনা দলিলগুলো জাতীয় সংসদে রাজনীতিকদের আলাপ-আলোচনা-মতামতের জন্য উপস্থাপন করা হোক।এবার বাজেট উপস্থাপনকালে ‘সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৯’-এর ১১ ধারা অনুযায়ী সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ‘মধ্যমেয়াদী সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি-বিবৃতি’জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। জাসদ মনে করে একই আইন অনুযায়ী সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন ও আলোচনা করা উচিত।
ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আংশিক অর্জিত হয়েছে- সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০-এর অধীনে সরকারের প্রথম বাজেট এবারের জাতীয় বাজেট ২০১৬-১৭। প্রবৃদ্ধির গতিশীলতা, কর্মসৃজন, দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে এবারের বাজেট যার শিরোনাম দেয়া হয়েছে ‘প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রযাত্রা’ বলে। বাংলাদেশ এ বছর ৬% প্রবৃদ্ধির বৃত্ত থেকে ৭% প্রবৃদ্ধির দিকে যাত্রা শুরু করেছে। জাসদ মনে করে জাতীয় বাজেট ২০১৬-১৭ গত দুই দশকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারায় প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখলেও ‘উন্নয়ন’ ও‘সমতা’ নিশ্চিত করতে কোন আদর্শগত ও ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা দেয়নি।
ইনক্লুসিভ গ্রোথ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি যে নামেই ডাকা হোক না কেন তা চিরায়ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিরই একটি রূপভেদ। প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়ন সমার্থক নয়। উন্নয়ন প্রপঞ্চটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে বৃহত্তর ও ব্যপক। অর্থনীতি ও উন্নয়ন বিষয়ে সমকালীন পুঁজিবাদী বিশ্বসাহিত্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সূচকের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিমাপের প্রয়াসকে অবান্তর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবারের বাজেটে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ও বিভিন্ন সামাজিক সূচকের ধারণা ব্যবহার করা হলেও তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অনুসঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন নীরিক্ষায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে অপরাপর সূচক ব্যবহার করে যে যে মানব উন্নয়ন সূচি প্রবর্তন করা হয়েছে- তা অথবা আরো অধিকতর সূচকসহ কোন সূচি হতে পারে উন্নয়নের নির্দেশক। অর্থমন্ত্রী বাজেট কাঠামো উপস্থাপনের যে প্রস্তাব করেছেন- সেক্ষেত্রে জাসদ ‘উন্নয়ন’ ধারণার সমকালীন আলোচনার প্রতিফলন দেখতে চায়।
বাংলাদেশের সংবিধানে সমাজতন্ত্রসহ চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতির পুনর্বহাল কি শুধুমাত্র ওই শব্দগুলোর পুনর্বহালের জন্যই, নাকি তার কোন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রায়োগিক প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। কারণ জাতীয় নীতি দলিলগুলো ও বাজেট ২০১৬-১৭-তে সমাজতান্ত্রিক নীতির বহু দিক নির্দেশনা আছে। সমাজতন্ত্রের দৃষ্টিতে এই বাজেটে সমতা বিধানের অনেক পদক্ষেপ আছে। বাজেট চূড়ান্ত করার সময় সমাজে সমতা বিধানের লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক নীতি অনুস্বরণ করা হয়েছে, এ কথাটি সরাসরি উল্লেখ করতে হবে। সমাজতান্ত্রিক নীতির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়, ব্যক্তি ও সমবায় মালিকানার স্বীকৃতি আছে বাংলাদেশের সংবিধানে- কিন্তু ঘোষিত বাজেটে ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ নিয়ে ও সরকারি-বেসরকারি মালিকানা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা থাকলেও অর্থনীতিতে সমবায় মালিকানার ভূমিকা ও বিকাশ বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চুপ। জাসদ সংবিধানের মূলনীতির একটির প্রতি এ কৃপণতাকে যথাযথ মনে করে না।
জাসদ অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে জনগোষ্ঠীর অগ্রগতি পরিমাপে যথাযথ মনে না করলেও প্রবৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। প্রবৃদ্ধিকে প্রধান বাহন ধরে নিয়ে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্য আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার যে প্রত্যয়- সে লক্ষ্যে বাংলাদেশের একটি পর্যালোচনা ও কৌশলপত্র প্রণয়ন করা প্রয়োজন যাতে মনেযোগ দেয়া হবে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে যেসব বিশেষ সুবিধা ভোগ করছে সেগুলো না থাকলে বাংলাদেশ কিভাবে নিজ প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করবে ও অব্যাহত রাখবে।
২০১৬-১৭ সালের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটকে অনেকে বিশাল বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করলেও জাসদ মনে করে জনসংখ্যা বিচারে এটা মোটেও বিশাল বাজেট নয়। এ বাজেটের অর্থায়ন নিয়েও বিভিন্ন ধরনের সমালোচনা দৃশ্যমান- জাসদ মনে করে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী রাজস্ব-জিডিপির অনুপাত বাড়ানোর পাশাপাশি বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার একটি স্থিতিশীল পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। বাজেট বাস্তবায়নে কৌশলগত ও সক্ষমতার চ্যালেঞ্জের কথাও বলেছেন অনেকে- জাসদ দেখতে পেয়েছে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় সেগুলোও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছেন।
বাজেট বক্তৃতার শিরোনামে ‘সমতা’ যথেষ্ট গুরুত্ব পেলেও জাসদ মনে করে বাজেটের আয় ও ব্যয় উভয় ক্ষেত্রে ‘সমতা’র বিষয়টি আরো যথাযথভাবে বিবেচনা করা যেত। সম্পদ সমাবেশের জন্য জাসদ বরাবরই প্রগতিশীল কর নীতি গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছে- অর্থমন্ত্রী নিজেও তার বক্তব্যে প্রগতিশীল কর নীতি প্রয়োগের কথা বলেছেন এবং আয় কর ও সম্পদ করের পাশাপাশি কর্পোরেট করের মাধ্যমে সম্পদ সমাবেশে জোর দিয়েছেন। জাসদ তার এ অবস্থানকে স্বাগত জানায় এবং অধিকতর দক্ষতার সাথে আরো অধিকসংখ্যক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সম্পদ সমাবেশের আহ্বান জানায়।
বাজেট ব্যয়ের ক্ষেত্রেও (আয়ের বণ্টনের ক্ষেত্রে) সমতা যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে জিডিপির ২.২% বা বাজেটের ১৩% বরাদ্দের মাধ্যমে প্রথাগত চিন্তাকাঠমোয় আটকে রাখা হয়েছে আয়ের সুষম বণ্টনের বিষয়টি। সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভাতা প্রদানের পাশাপাশি বিশেষ জনগোষ্ঠী ও বিশেষ অঞ্চলের জন্য (চর, বিল, হাওর, বরেন্দ্র, পার্বত্য, উপকূল ও মধুপুর গড় কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চল) বিশেষ অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও বরাদ্দ প্রদান করে তাদেরকে মূলধারার অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া যেতে পারে।
মানব সম্পদ উন্নয়ন সরকারের ঘোষিত বিশেষ অগ্রাধিকার হলেও উচ্চতর প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (ঞঠঊঞ) সম্প্রসারণে বিশেষ উদ্যোগ ও বরাদ্দ দৃশ্যমান নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতেও বিশেষ কোন উদ্যোগ ও বরাদ্দ দৃশ্যমান নয়।
কৃষিতে বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক নিয়োজিত; কৃষি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান উৎস ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গতিশীলতার প্রভাবক- অথচ কৃষি খাতে বরাদ্দ ও ভর্তুকি বৃদ্ধি করা হয়নি। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকগণ ভর্তুকি দিয়ে দেশের জনগোষ্ঠীর খাদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছেন- অথচ তারা ফসলের লাভজনক মূল্য পচ্ছেন না। বর্তমান সরকারের গত সাত বছরে কৃষিতে অনেক ভাল পদক্ষেপ নেয়া হলেও কোন পদক্ষেপই একবারের বেশি দ্বিতীয়বার প্রয়োগ করা হয়নি। চাল আমদানিতে শুল্ক থাকলেও পেঁয়াজ-রসুন আমদানিতে শুল্ক রেয়াত দেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের পেঁয়াজ-রসুন উৎপাদকদের তাদের উৎপাদিত ফসলের লাভজনক মূল্যপ্রাপ্তির সম্ভাবনা নাকচ করা হয়েছে। এসব পণ্যের ঘাটতি মেটাতে মওসুম শেষেকৃষকের ফসল বিক্রির পর আমদানি করা যেতে পারে। পাট ও পাট জাতীয় শিল্পপণ্যের উৎসে করারোপ পাট পুনরুদ্ধারে সরকারের বিগত বছরগুলোর প্রয়াসকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
কৃষি-শিল্প-সেবা- এ তিন প্রধান খাতের মধ্যে শিল্পকে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে পরিকল্পনা দলিল ও বাজেট বক্তৃতায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দেশীয় শিল্পকে প্রদত্ত প্রণোদনা অপর্যাপ্ত। শিল্প বিকাশে অগ্রাধিকার দেবার নীতি বাজেটে সুনির্দিষ্ট করা হয়নি।
জামাত-বিএনপি-হেফাজতসহ ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গী গোষ্ঠী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিম-ল ছাপিয়ে সাংস্কৃতিক পরেসরে শেকড় গেড়ে বসেছে। এদেরকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিকভাবে মোকাবেলার প্রয়োজন রয়েছে যা অত্যন্ত ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘ মেয়াদে পরিচালনা করা প্রয়োজন। রাজনীতি ও অর্থনীতির সাথে সংস্কৃতির (শুধু নন্দনচর্চার সংস্কৃতি নয়- সামগ্রিক জীবনবোধ ও জীবনাচারেরও বটে) সম্পর্ক যথাযথভাবে অনুধাবন করে সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক পরিমাণে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে এদেরকে চূড়ান্তভাবে মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে হবে এবং বাজেটে তার নির্দেশনা ও বরাদ্দ থাকতে হবে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার সাথে সাথে সংস্কৃতি জীবনমান এগিয়ে নেবার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এক জাতীয় মনন গড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক পরিমাণে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
মানব সম্পদ উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের মতো বৃহৎ খাতে নারীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জাসদ “জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশেষ কর্মসূচি প্রণয়ন ও তাতে বরাদ্দ প্রদানের জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানাচ্ছে।
বাজেটে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়নের ধারনাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে- বিশেষত জ্বালানি দক্ষ ও কম নির্গমণকারী প্রযুক্তি আমদানি ক্ষেত্রে। জাসদ এ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানায়। আয় কর সংগ্রহ বৃদ্ধি করার জন্য ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা কর দিতে পারে, এমন ব্যক্তি কর দাতাদের খুঁজে বের করা এবং তালিকা প্রণয়ন করার লক্ষ্যে একটি “বিশেষ টাস্কফোর্স” গঠন করতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে পল্লী রেশনিং এর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করলেও চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। অবিলম্বে পল্লী রেশনিং চালু করা জরুরী।
বাজেট বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য শুধু অঙ্গীকারই যথেষ্ট নয়, এজন্য কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন রয়েছে। বিদেশী ঋণ ও অনুদান যা পাইপ লাইনে রয়েছে তা ছাড় করার জন্য অবিলম্বে আরেকটি “বিশেষ টাস্কফোর্স” গঠন করতে হবে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ আশা করে কেবলমাত্র প্রথাগত সমালোচনার প্রতি সংবেদনশীলতা নয় সাংবিধানিক নির্দেশকে অনুসরণ করেই বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট প্রণীত ও অনুমোদিত হতে হবে। জাসদ আশা করে উল্লিখিত বক্তব্যের আলোকে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট ২০১৬-১৭ পরিমার্জিত আকারে মহান জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হবে।সংবাদ বিজ্ঞপ্তি