প্রবীণরা সমাজে সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব: রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক রিপোর্ট: রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ আগামীকাল ১ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২২’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :
“বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২২’ উদযাপনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এবছর দিবসটির প্রতিপ্রাদ্য ‘The Resilience of Older Persons in a Changing World’ অর্থাৎ ‘পরিবর্তিত বিশ্বে প্রবীণ ব্যক্তির সহনশীলতা’ বর্তমান প্রেক্ষাপটে যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।
প্রবীণরা সমাজে সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। সভ্যতার উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় তাদের অবদান অনস্বীকার্য। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষ ও আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির কারণে দেশে প্রবীণের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মোট জনসংখ্যার ৯.২৮ শতাংশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সংবিধানে সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ সংযুক্ত করেন। প্রবীণদের মর্যাদাসম্পন্ন, দারিদ্র্যমুক্ত, কর্মময়, সুস্থ ও নিরাপদ পারিবারিক ও সামাজিক জীবন নিশ্চিত করতে সরকার ‘জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা, ২০১৩’ ও ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ প্রণয়ন করেছে। বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা প্রবর্তন করা হয়। এখন পর্যন্ত দেশের ২৬২টি উপজেলার শতভাগ বয়স্ক ব্যক্তিকে এ ভাতার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট ৫৭ লক্ষ ১ হাজার জন প্রবীণ ব্যক্তিকে বয়স্ক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া আশ্রয় ও স্বজনহীন প্রবীণদের জন্য ৮টি প্রবীণ নিবাস স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের গৃহীত এসকল পদক্ষেপ প্রবীণদের কল্যাণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
প্রবীণ ব্যক্তির বয়সজনিত বহুবিধ শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা যায়। এসময় তাঁদের পারিবারিক ও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। তাই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি জনহিতৈষী সংগঠন ও বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধেও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আমি প্রবীণদের সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবন কামনা করছি।
‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২২’ উদযাপন সফল হোক।
জয়বাংলা।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”