প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তা আনতে গিয়ে আঙুল হারালেন রিনা

5

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তা আনতে গিয়ে আঙুল হারানো স্বামী পরিত্যাক্তা রিনা বেগমের (৩৬) পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারীকে দেখতে যান স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন ও বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে. এম. ইয়াসির আরাফাত।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর ইউনিয়ন পরিষদে অসহায় ও দুস্থদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তার ৪৫০ টাকা আনতে যান রিনা। টাকা নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ানোর পর রিনাকে পেছন দিক থেকে ধাক্কাধাক্কির সময় তিনি পরিষদের দরজায় গিয়ে ধাক্কা খান। এসময় রিনার ডান হাত দরজার ফাঁকে আটকে যায়। তখন দরজায় থাকা চৌকিদার বখতিয়ার দরজা বন্ধ করে দিলে রিনার ডান হাতের একটি আঙুল পুরোপুরি এবং আরেকটি আংশিক কাটা পড়ে। রাতে তাকে জেলার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তির পর সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও ইউএনও আহত রিনার শারীরিক খোঁজ-খবর নেন। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামি, বিজয়নগর উপজেলা প্রকল্প বা¯Íবায়ন কর্মকর্তা শাহীনূর জাহান ও হরষপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব খোরশেদ আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে রিনার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের পÿ থেকে ১০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া হরষপুর ইউনিয়ন পরিষদের তরফ থেকেও রিনার চিকিৎসার জন্য আরও ১০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেওয়া তুলে দেওয়া হয় রিনার হাতে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয় ঘটনাটি তদন্তের জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আমি আহত রিনা বেগমের বক্তব্য শুনেছি। প্রাথমিকভাবে তাঁর চিকিৎসার জন্য কিছু অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আমি এখন ঘটনাটি তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে রওনা হচ্ছি। তদন্তে যদি কারো অবহেলায় এ ঘটনা ঘটেছে প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।