প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হলো রাজশাহীর বাগধানী শাহী মসজিদ

মাহী ইলাহি, রাজশাহী : দেরিতে হলেও অবশেষে রাজশাহী পবা উপজেলার নওহাটা পৌর এলাকার বাগধানী তিন গম্বুজ মসজিদটি প্রত্নতত্ত অধিদফতরের নজরে এসেছে। বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব সম্পদের তালিকায় এই মসজিদটিকে স্থান দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সেলিম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার বিকেলে তিনি জানান, মসজিদটি সংরক্ষণের জন্য সম্প্রতি প্রত্নতত্ত অধিদফতরের উপ-সচিব গাজী ওয়ালি-উল-হক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসেছে। চিঠিতে উপজেলা প্রশাসন দফতরে মসজিদটির সার্বিক অবস্থা এবং ভূমি তফসিলও পাঠাতে বলা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শাহী জামে মসজিদটি নির্মিত হয় প্রায় ২০০ বছর আগে। অতিপ্রাচীন তিন গম্বুজ বিশিষ্ট ঐতিহাসিক এই মসজিদটি সংস্কারের অভাবে নষ্ট হতে বসেছিল। সংস্কার না করায় এরই মধ্যে মসজিদটির অনেক কিছুই কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

মসজিদ ভবনটির দৈর্ঘ্য ৮০ ফুট। আর প্রস্থ ৪০ ফুট। ক্ষেত্রফল ৩ হাজার ২০০ বর্গফুট। মসজিটটির সদর দরজায় শিলা লিপিতে ফার্সি হরফে লেখা আছে ১২শ’ সালে মুন্সি এনায়েতুল্লাহ এ মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। মসজিদটির মেহেরাব ৩টি, দরজা ৩টি, ২টি জানালা ও একটি মিনার রয়েছে। মসজিদটির চার কোনায় নকশা খচিত গম্বুজ আকৃতির মনোরম একটি পিলারও আছে। এটি যে কোন পর্যটককে আকর্ষণ করতে সক্ষম। এছাড়াও মসজিদের চারপাশের দেয়ালে ভেতরে ও বাইরে চিনামাটির মনোরম নকশা করা রয়েছে।

১৯৯০ সালে ভূমিকম্পে মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মসজিদের পাশে অবস্থিত কাচারি ঘরের ধ্বংসাবশেষ এখনো কালের স্বাক্ষী। মসজিদের চারপাশ রয়েছে বিস্তর ফাঁকা জায়গা। যখন নদী পথই ছিল একমাত্র পথ। তখন এই মসজিদকে ঘিরেই এখানে বারনই নদীর ঘাট ছিল। সেই সূত্র ধরে এখানে এখনও সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে। ওই এলাকার একমাত্র প্রাচীন হাট এটিই। মসজিদটি গড়ে ওঠার পর থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এখানে মানত-সদকা করে থাকেন এবং নামাজ আদায় করেন।

রাজশাহী জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তরে নওহাটা পৌরসভার বাগধানী কাচারীপাড়ায় মসজিদটি অবস্থিত। এর একপাশ দিয়ে তানোর-রাজশাহী পাকা রাস্তা এবং অপর পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে বারনই নদী। এর ওপর দিয়ে নির্মিত হয়েছে সংযোগ ব্রীজ। মসজিদ সংলগ্ন এলাকা সবুজায়নের শ্যামল প্রান্তর।

রাজশাহী জেলা সদরের রেলগেট থেকে তানোর রোড ধরে মাত্র ১৫ টাকা ভাড়ায় যাওয়া যায় এখানে। এছাড়া রাজশাহী-নওগাঁ সড়ক দিয়ে নওহাটা ডিগ্রি কলেজ মোড়ে নেমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং নছিমন-করিমনযোগেও যাওয়া যায় বাগধানী মসজিদে।

পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম হোসেন বলেন, ‘প্রাচীন এই মসজিদকে রক্ষা এবং ইতিহাসে এই মসজিদের স্বরুপ তুলে ধরা আমাদের সবারই কর্তব্য। তাই সম্প্রতি পবা উপজেলার স্বরণিকায় মসজিদটির প্রচার করা হয়। এরপরই এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের নজরে আসে। মসজিদটির ভাল কিছু হচ্ছে জেনে ভাল লাগছে।’