পৌর নির্বাচন তেমন সুষ্ঠু হয়নি : সাবেক নির্বাচন কমিশনার

94

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশে দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রথমবারেরমত পৌরসভা নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুয়ায়ি সরকার দলীয় প্রার্থীরা নিরঙ্কুষ জয় লাভ করেছে। সেই তুলনায় মূল প্রতিদ্বন্ধী দল বিএনপি প্রত্যাশিত ফল পায়নি। এই নির্বাচনে ২৭ জনেরমত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সকাল ১১ টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করবে। তবে এই নির্বাচনকে ইতমধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রহসনের নির্বাচন বলে উল্লেখ করেছেন। বিএনপি দাবি করেছে ১৫৭ টি পৌরসভায় ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। তাদের অভিযোগ বেশ কিছু কেন্দ্র থেকে তাদের এজন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আজ বিএনপি প্রতিক্রিয়া জানাবে। তবে আওয়ামী লীগ বলছে বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ইতিহাসে এই নির্বাচন সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।
নির্বাচনের দিন ভোট গ্রহণের শুরুর পর সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে নানা অনিয়ম ও সহিংসতার খবর পাওয়া যায়। নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে সাবেক নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, নির্বাচন কেমন হল তা বলার এখনও সঠিক সময় হয়নি। আমরা টেলিভিশনে কিছু চিত্র দেখেছি কিন্তু সব কিছুতো দেখানো সম্ভবনা। কারণ তাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত যেটুকু দেখা যায় প্রচুর সহিংসতা, মারামারি হয়েছে, বুথ দখল হয়েছে, ব্যালট পেপার ছিনতাই হয়েছে। সার্বিকভাবে বাংলাদেশের পৌর নির্বাচন তেমন সুষ্ঠু হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন।
সব মিলিয়ে “নির্বাচনটি তেমন সুষ্ঠু হয়নি যেমনটি হওয়ার কথা ছিল” বলে মনে করেন সাখাওয়াত হোসেন। নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে আওয়ামী লীগের এই দাবি যথার্ত কিনা এ প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন করেছে, তারা মাঠে কাজ করেছে, তাদের কাছে বেশি খবর আছে। কিন্তু আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা যদি কাজে লাগাই তাহলে দেখা যাবে নির্বাচনের মধ্যে অনেকগুলো সমস্যা আছে। আমি বলছি না নির্বাচন একশতভাগ সমস্যা আছে। নরমালি উত্তরবঙ্গের নির্বাচনগুলো ভাল হয় কিন্তু সেসব জায়গায়ও কিছু কিছু সমস্যা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন বিশ্লেষণ করতে গেলে আগের নির্বাচনকে দেখতে হবে সেগুলো কেমন হয়েছিল। বিশেষ করে ২০১১ সালে ২৫৪ টি পৌরসভা নির্বাচন হয়েছিল। সেই সময় ৫টি ধাপে নির্বাচন হয়েছিল। সেখানে ভোট পড়েছিল ৫৬.৮৮ শতাংশ। সাধারণত স্থানীয় নির্বাচনে ভোটের হার এরকমই হয়। কারণ একটা ভোটারকে তিনটি ব্যালোটে সিলেক্ট করতে হয় সেখানে সময়ের একটা ব্যাপার আছে। ২০১১ সালে নির্বাচন যদিও দলীয় ছিল না সেখানে বিএনপি ১০৬টি পৌরসভায় জয়লাভ করেছিল। আর আওয়ামী লীগ ১১৬ টি পৌরসভায় জয়লাভ করেছিল।
পূর্ব অভিজ্ঞতার দিক বিবেচনায় সাবেক এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, দুটি দলেরই কাছাকছি কোর সাপোর্ট রয়েছে। যতন বিএনপির ভরাডুবি হয়েছিল তখন বিএনপির কোর সাপোর্ট ছিল ৩১শতাংশ। আওয়ামী লীগ এর সবসময় কোর সাপোর্ট ছিল ৩৩-৩৪ শতাংশ এবং বর্তমান অবস্থায় বলা যায় বিএনপির সেই কোর সাপোর্টও নেই। এই বিষয়ে বিশ্লেষণ করতে গেলে আজকের দিনটা দেখতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে কিনা এটা বিচার করবে ভোটাররা। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কখন হয় যখন ভোটাররা মনে করেন তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পেরেছেন এবং ভোটের ফলে তাদের মত প্রতিফলিত হয়েছে। আমি আপনি বললে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবেনা। ভোটাররা বলতে পারবে নির্বাচন কমিশন তারা তাদের অবস্থান থেকে তারা কতটা বেরিয়ে আসতে পেরেছে। কমিশন চেষ্টা করেছে তাদের পূর্ববর্তী অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে কিন্তু সেটা পুরোপুরি পারেনি। কারণ নির্বাচন কমিশন একাতো নির্বাচন করে না। সেই ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কারো কাছ থেকে খুব একটা সহযোগিতা পায়নি। কিছু কিছু জায়গায় তাদের আরও কঠোর হওয়া দরকার ছিল কিন্তু তারা সেটা পারেনি।
বুধবার নির্বাচনের দিন নানা রকমের অনিয়মের অভিযোগে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি পরস্পরকে দোষারোপ করেছে। আরিফুর রহমান, আমাদের সময়.কম