পৌর নির্বাচনের প্রার্থী ঠিক করছে বিএনপি

53

যুগবার্তা ডেস্কঃ নির্বাচনে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো না দিলেও পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঠিক করার কাজ শুরু করেছে বিএনপি। দলের কয়েকজন নেতা আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। বিএনপির দায়িত্বশীল দুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

২৩৪টি পৌরসভায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ৩০ ডিসেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে থাকা না থাকা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি। পৌর নির্বাচন নিয়ে গতকাল বুধবার রাতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সূত্র জানায়, বৈঠকে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। আজ রাতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচনে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

বিএনপির সূত্র জানায়, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও বসে নেই বিএনপি। দলটির নেতারা পৌর নির্বাচন নিয়ে পুরোদমে কাজ শুরু করেছেন। আজ সকাল থেকে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ কাইয়ুম, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ-বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভুঁইয়াসহ দলের কয়েকজন নেতা গুলশান কার্যালয়ে প্রার্থী ঠিক করার কাজ শুরু করেছেন। তাঁরা বিভিন্ন এলাকায় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর করছেন। চলমান এই বৈঠকে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তবে নির্বাচন কমিশনকে চাপে রাখার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু শর্ত যুক্ত করা হতে পারে।

সূত্র জানায়, বিএনপির দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা কাকে বা কাদের দেওয়া হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে অথবা জেলা পর্যায়ে কমিটি করে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষমতা দেওয়ার চিন্তা আছে।

গতকাল রাতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকের একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, দুই ঘণ্টার ওই বৈঠকে মূল আলোচনা হয়েছে পৌর নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচনে যাওয়া এবং না যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে দুটোর পক্ষেই মত দিয়েছেন নেতারা। সবার বক্তব্যই ছিল, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। কিন্তু মাঠের নেতারা প্রায় সবাই নির্বাচনের পক্ষে, নির্বাচনে না গেলে তৃণমূলের নেতারা হতাশায় পড়বেন। তাই নির্বাচনে যাওয়াটা উচিত হবে বলে বেশির ভাগ নেতা মনে করেন।প্রথম আলো