পৌরসভা নির্বাচনে আ: লীগের ভূমিকায় শরীকরা অসন্তোষ

62

যুগবার্তা ডেস্কঃ আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণ করার ক্ষমতাসীনদের এ সিদ্ধান্তে ১৪ দলীয় জোটের শরীকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় মহাজোটের নেতারা মনে করেন আওয়ামী লীগের এমন সিদ্ধান্তের ফলে জোটের শরীকদের মধ্যে বিরোধের চিত্র দেখা দিতে পারে। আ’লীগের একক নির্বাচনের সিদ্ধান্তে ব্যালটের যুদ্ধে জোটের সদস্যদের মধ্যেই সংগঠিত হবে।
আওয়ামী লীগের এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে জোটের অন্য শরীকরা স্বাধীনভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আওয়ামী লীগের আশীর্বাদ ছাড়া নির্বাচনে সফল হওয়া তাদের জন্য অনেকটা কঠিন হবে বলে একটি সূত্র জানায়।
আবার জোটের অনেক শরীক দলের সদস্যদের মধ্যে ভিন্নমতও দেখা যায়। তাদের মতে আওয়ামী লীগের এককভাবে পৌরসভার নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে কিছুই যায় আসে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রথমবারের মতো দলীয় জনপ্রিয়তার পরিমাপ করা সম্ভব হবে। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন, পৌর নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের জোটের শরীকরা তৃণমূলে নিজেদের শক্তিশালী করার সুযোগ পাবে।
এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বৃহস্পতিবার এককভাবে পৌরসভা নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। অপর দিকে বিএনপি স্থানীয় নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের ব্যানারে নির্বাচন করবে। দেশের ২৩৬টি পৌরসভার নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
একটি সূত্র জানায়, যৌথভাবে নির্বাচন করার জন্য ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। মেনন জোটের মাধ্যমে থেকেই আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আবেদন জানিয়েছেন। নাসিম দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে এ বিষয়ে জানানো হবে বলে তাকে মেননকে আশ্বস্ত করেছেন।
আওয়ামী লীগ বিগত ২টি সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলের হয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছেন। শনিবার মেনন বলেন, যৌথভাবে নির্বাচন করা জোটের জন্য মঙ্গলজনক। আওয়ামী লীগ যদি এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আমরাও এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেব।
একই দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন, আমরা যেহেতু জোটের শরীক তাই আওয়ামী লীগের এককভাবে পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জোটের সঙ্গে আলোচনা করার প্রয়োজন ছিল। তবে এই ব্যাপারে চিন্তার কিছু নেই আমরাও এককভাবে পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মহাসচিব শরীফ নূরল আম্বিয়া বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের এককভাবে পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্তে অবাক হয়নি কারণ এর আগেও আমরা এককভাবে নির্বাচন করেছি। দেশের বর্তমান ক্রান্তিকালে দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এখানে আমাদের কিছু বলার নেই। আমরা আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। জেলা পর্যায়ে আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নির্বাচনে কাজ করার জন্য।
মহাজোটের অন্য শরীক দল গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুর রহমান সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগের একক নির্বাচন করার সিদ্ধান্তের ফলে একই জোটের নেতাদের মধ্যে ভোটযুদ্ধ হবে। আওয়ামী লীগের এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জোটগতভাবে পৌরসভার নির্বাচন করার বিষয়ে আরো একবার বিবেচনা করা উচিৎ।
যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহউল আলম লেনিন বলেন, কোন স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। এটি শুধু পৌরসভা নির্বাচনে নয় সব স্থানীয় নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচনের অংশ নেবে। পৌরসভা নির্বাচন সরকার গঠনের কোন নির্বাচন নয়। তাই এই ¯’ানীয় নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলের এককভাবে নির্বাচন করা উচিৎ।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন রাজনৈতিক দলগুলোকে পুনর্গঠন করার সুযোগ তৈরি করে আরো শক্তিশালী করবে। তাই এই নির্বাচন জোটবদ্ধ হয়ে না করার চেয়ে এককভাবে অংশগ্রহণ বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।আমাদের সময়.কম