পে স্কেল: চাকরি জীবনে প্রতিবছরই ফিক্সেশন করতে হবে

285

যুগবার্তা ডেস্কঃ অষ্টম বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতিবছরই ‘ফিক্সেশন’ করে যেতে হবে। নতুন কাঠামোয় বেতন পাওয়ার জন্য যাঁরা অনলাইনে বেতন নির্ধারণ (ফিক্সেশন) করেছেন, তাঁদেরসহ যাঁরা করেননি তাঁদেরও প্রতিবার বেতন বৃদ্ধির সময় ফের ফিক্সেশন করতে হবে। অর্থাৎ ইনক্রিমেন্ট বা অন্য কোনো কারণে মূল বেতন বাড়লেই তা অনলাইনে ফিক্সেশন করতে হবে প্রতিবার। না হলে বর্ধিত বেতন পাবেন না সরকারি চাকুরেরা। এভাবে চাকরির শেষ দিন পর্যন্ত মূল বেতন বাড়া মাত্রই ফিক্সেশন করে যেতে হবে। যাঁরা সরকারি চাকরিতে নতুন যোগদান করবেন, তাঁদেরও একইভাবে ফিক্সেশন করতে হবে। ফিক্সেশন না করা পর্যন্ত নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো চাকরিজীবী বেতন-ভাতাদি পাবেন না।
সরকারি চাকরিজীবীদের নির্ভুল ডাটাবেইস নিয়মিতভাবে হালনাগাদ রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।
‘সরকারি চাকরিতে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ও পদোন্নতি এবং ১ জুলাই হতে ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৫ সময়ে প্রাপ্ত টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে বেতন নির্ধারণ’ সংক্রান্ত অর্থ বিভাগের জারি করা এক পরিপত্রে এসব কথা বলা হয়েছে।
এদিকে গতকাল জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে গ্রস পেনশনের সর্বোচ্চ পরিমাণ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের বেতন কাঠামোয় এটি ছিল ৪০ হাজার ৫০০ টাকা। এর আগে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সর্বনিম্ন পেনশনের পরিমাণ তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করে সরকার।
চাকরিজীবীদের গ্রস পেনশনের সর্বোচ্চ পরিমাণ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং নতুন বেতন কাঠামোর আদেশ জারির আগে ও পরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের নতুন কাঠামোয় বেতন দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
অনলাইনে বেতন ফিক্সেশন সংক্রান্ত গত ২৫ জানুয়ারি জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর আদেশ গেজেট আকারে প্রকাশের পর সব সরকারি চাকরিজীবীর জন্য বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে বেতন নির্ধারণ ব্যবস্থা প্রচলন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীর বেতন ও অন্যান্য তথ্যসংবলিত একটি নির্ভুল ডাটাবেইস তৈরি করা হচ্ছে। এ ডাটাবেইস নিয়মিত হালনাগাদ করার স্বার্থে গত ১ জুলাই অনলাইনে বেতন নির্ধারণের পর যেসব ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণে মূল বেতনের পরিবর্তন হবে, সেগুলোও হালনাগাদ করে ফিক্সেশন করতে হবে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন পাওয়ার আগে ফিক্সেশন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘গত ১ জুলাই বা তার পরে সরকারি চাকরিতে নতুন নিয়োগ পাওয়া প্রত্যেককে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে বেতন নির্ধারণ করতে হবে। অনলাইনে বেতন নির্ধারণ ব্যতিরেকে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো চাকরিজীবীর বেতন ও ভাতাদি পরিশোধ করা যাবে না।’ কোনো চাকরিজীবীর পদোন্নতি হলে তাঁকেও নতুন পদে যোগ দিয়েই বেতন ফিক্সেশন করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘গত ১ জুলাই বা তার পরে পদোন্নতি পাওয়া সকল সরকারি চাকরিজীবীর প্রত্যেককে পদোন্নতিজনিত কারণে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে বেতন নির্ধারণ করতে হবে। অনলাইনে বেতন নির্ধারণ ছাড়া কোনো চাকরিজীবীকে পদোন্নতিজনিত কারণে উচ্চতর গ্রেডে বেতন ও ভাতা পরিশোধ করা যাবে না।’
গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন বেতন স্কেলের আদেশ জারি করা হয়েছে গত ১৪ ডিসেম্বর। আদেশ জারির দিন থেকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাতিল করা হয়েছে। তবে গত ১ জুলাই থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পেয়েছেন, সেগুলো বহাল রাখা হয়েছে। এই সময়ে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পর্কে জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, তাঁদের সবাইকে প্রতিটি প্রাপ্ত সুবিধার জন্য আলাদা করে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে বেতন নির্ধারণ করতে হবে। কোনো চাকরিজীবী এই সময়ের মধ্যে একাধিক সুবিধা পেয়ে থাকলে, যে সুবিধাটি তিনি আগে পেয়েছেন, প্রথমে তার জন্য একবার ফিক্সেশন করার পর পরের সুবিধার জন্য আবার ফিক্সেশন করতে হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, নতুন নিয়োগ, টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড অথবা পদোন্নতি ছাড়াও অন্য কোনো কারণে কোনো চাকরিজীবীর বেতন গ্রেড বা মূল বেতন পরিবর্তন হলে তাঁকেও বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে ফিক্সেশন করতে হবে। অনলাইনে বেতন ফিক্সেশনের জন্য যে ওয়েবসাইট (িি.িঢ়ধুভরীধঃরড়হ.মড়া.নফ) প্রস্তুত করা হয়েছে, তা শিগগিরই সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তার আগ পর্যন্ত নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতি এবং গত ১ জুলাই থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে পাওয়া টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পাওয়ার কারণে উচ্চতর গ্রেডে বা একই গ্রেডে উচ্চতর ধাপে বেতন ও ভাতা পরিশোধ স্থগিত থাকবে। তবে অনলাইনে বেতন ফিক্সেশনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেলে সবাই প্রাপ্য অতিরিক্ত বেতন যথানিয়মে বকেয়া হিসেবে পাবেন।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন-ভাতা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানসহ সরকারের বিভিন্ন বেসামরিক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিতদের নতুন কাঠামোয় বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণ করেছে সরকার। ভবিষ্যতে যাঁরা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে।
গত ২৬ জানুয়ারি অর্থ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ১ জুলাইয়ের আগে যাঁরা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন এবং নিয়োগের মেয়াদ ২০১৫ সালের ১ জুলাই বা তারপর পর্যন্ত অব্যাহত আছে, তাঁদের সরকারের সঙ্গে আবার চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে নতুন বেতন স্কেল জারির আগে নিয়োগপ্রাপ্তরা যে যে গ্রেডে বেতন পেতেন, নতুন কাঠামোতেও তাঁরা একই গ্রেড পাবেন। নতুন চুক্তি সম্পাদনকালে এটি উল্লেখ করতে হবে। আর গত বছরের ১ জুলাই বা তার পরে যাঁরা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন বা পাবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে অবসর গ্রহণের অব্যবহিত আগে পাওয়া শেষ বেতন চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত পদের বেতন হিসেবে নির্ধারিত হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার বা উভয় পক্ষের সম্মতিতে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত বেতনই চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত পদের বেতন হিসেবে নির্ধারিত হবে।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের নির্ধারিত বেতন থেকে নির্ধারিত গ্রস পেনশন এবং বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন (যদি থাকে), বাদ যাবে না। তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালীন চাকরির জন্য কোনো ইনক্রিমেন্ট, আনুতোষিক বা বর্ধিত পেনশন দেওয়া হবে না। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ছাড়া অন্যদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বেতন-ভাতাসংক্রান্ত শর্তাবলী প্রতি ক্ষেত্রে গুণাগুণ বিবেচনা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্থির করা হবে।