পে-স্কেলে ‘অসঙ্গতি’, আজ থেকে ‘বন্ধ’ সব বিশ্ববিদ্যালয়

92

যুগবার্তা ডেস্কঃ নতুন পে-স্কেলে অর্থমন্ত্রী প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং অন্যান্য ‘অসঙ্গতি’ দূর না হওয়ায় আজ সোমবার থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু হচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
গত ২ জানুয়ারি শনিবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মবিরতি চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধুমাত্র সেমিস্টার ও কোর্স ফাইনাল পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষক সমিতি।
ফেডারেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য অষ্টম জাতীয় বেতনকাঠামোতে অর্থমন্ত্রী-প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিসমূহ পূরণ ও অন্যান্য অসঙ্গতি দূরীকরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এ কারণে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ফেডারেশনভুক্ত দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আজ ১১ জানুয়ারি সোমবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালিত হবে। দাবিপূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
আরো বলা হয়, সান্ধ্যকালীন কোর্সসমূহের ক্ষেত্রেও কর্মবিরতি প্রযোজ্য হবে। পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। শিক্ষার্থীদের অনুরোধ ও তাদের শিক্ষাজীবন রক্ষার বিষয় বিবেচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি কর্মবিরতি চলাকালীন সময়ে শুধুমাত্র সেমিস্টার/কোর্স ফাইনাল পরীক্ষাসমূহ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে মিডটার্ম পরীক্ষাসহ অন্যান্য সকল শ্রেণি পরীক্ষা ওই সময় স্থগিত থাকবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কর্মবিরতির কর্মসূচি থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব বিভাগের শিক্ষকদের কোর্স পড়ানো শেষের দিকে ছিল তাদের অনেকেই দীর্ঘ ক্লাস নিয়ে তা শেষ করেছেন। অনেকে অতিরিক্ত ক্লাসও নিয়েছেন যাতে শিক্ষার্থীদের কোনো ধরণের ক্ষতি না হয়। গত কিছুদিন ধরে শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের যৌক্তিকতাও শিক্ষার্থীদেরকে জানিয়েছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো- অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য সপ্তম জাতীয় বেতন স্কেলের সম্পূর্ণ অনুরূপ সিলেকশন গ্রেড ও টাইম-স্কেল বহালসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত রাখতে হবে; অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে সিনিয়র সচিবের যে স্থান রাখা হয়েছে, সেই স্থানে গ্রেড-১ প্রাপ্ত অধ্যাপকদের মধ্য থেকে একটি অংশকে শতকরা হারে উন্নীত করার বিধান রাখতে হবে; সরকারি কর্মকর্তাদের অনুরূপ গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধা শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও নিশ্চিত করতে হবে।মাছুম বিল্লাহ, আমাদের সময়.কম