পেছাতে পারে বিএনপির কাউন্সিল

53

যুগবার্তা ডেস্কঃ কাউন্সিলের জন্য এখনো ভেন্যু পায়নি বিএনপি। তাই ১৯ মার্চ দলের জাতীয় কাউন্সিল করবে কি না এ নিয়ে নেতা-কর্মীরা সংশয়ে। ভেন্যু না পেলে কাউন্সিল কয়েকদিন পেছাতে পারে। তবে ২৮ মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের আগেই করার জোর প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা আশা করছেন, ১৯ মার্চই তারা কাউন্সিল করবেন। ভেন্যুও পাওয়ার প্রত্যাশা তাদের। কাউন্সিলকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বের বিএনপির ৫ম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে।
কাউন্সিলের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘আমরা ঘোষিত তারিখেই কাউন্সিল করতে চাই। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতিও চলছে। চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রকে (বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র) ঘিরেই কাউন্সিলের চিন্তাভাবনা চলছে। আশা করি, সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে সেখানে কাউন্সিলের অনুমতি দেবে।’
একই কথা বলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, ‘এক মাস আগেই আমরা তিনটি স্থানে কাউন্সিলের ভেন্যু চেয়ে আবেদন করেছি। তবে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রকে। এ নিয়ে কয়েক দফা যোগাযোগও করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কর্তৃপক্ষ কিছুই জানায়নি।’
গত জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন এই তিন জায়গার যে কোনোটিতে জাতীয় কাউন্সিল করার অনুমতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে বিএনপি। গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদফতর পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কাউন্সিল করায় আপত্তি না থাকার কথা জানিয়েছে।
তবে রিজভী জানান, পুলিশের কাছে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এর বাইরে বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার বিএনপির পছন্দ থাকলেও সেখানে রাজনৈতিক দলকে ভাড়া না দেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিএনপির দাবি ‘কাউন্সিলরদের তালিকার শতকরা ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। শোক প্রস্তাবের জন্য দলের যেসব নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছেন, মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের তালিকার কাজও ৬০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক উপ-কমিটি কোন কোন দেশে আমন্ত্রণ পাঠাবে, তার তালিকাও চূড়ান্ত হয়েছে। কাউন্সিল উপলক্ষে গঠন করা ১১টি উপকমিটিকে নিয়ে সম্প্রতি বৈঠকও করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনের প্রস্তুতিও চলছে। গঠনতন্ত্র সংশোধনে কাউন্সিলরদের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। খসড়া গঠনতন্ত্র নির্বাচন কমিশনেও জমা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির দফতর সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী জানান, কাউন্সিলের জন্য স্থান এখনো না পাওয়া গেলেও প্রস্তুতি পুরোদমেই চলছে। তবে বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সংশয়, অতীতে কয়েক দফা কাউন্সিল পেছানো হয়েছে। এখনো ভেন্যু পাওয়া যায়নি। সরকার আগেও কাউন্সিল করতে বাধা দিয়েছে। এখনো নেতা-কর্মীদের হয়রানি-নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এ অবস্থায় ১৯ মার্চ কাউন্সিল হবে কি না খুবই সন্দেহ। তাছাড়া কাউন্সিলের প্রস্তুতিও সেই অর্থে হচ্ছে না। নামকাওয়াস্তে কাউন্সিলের প্রস্তুতি চলছে। যদি কাউন্সিল হয়, তা দায়সারা গোছের হবে বলেও মনে করেন কেউ কেউ। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, স্বল্প পরিসরে হলেও কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নির্বাহী কমিটি করতে চান বেগম জিয়া। মেয়াদোত্তীর্ণ দল নিয়ে ভিতরে বাইরে নানা সমালোচনা রয়েছে। তাছাড়া নিষ্ক্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে থাকা নেতাদের জায়গা করে দেওয়ার চিন্তাও বিএনপি প্রধানের। নতুন রূপে স্থায়ী গুরুত্বপূর্ণ পদেও পরিবর্তন আনা হবে। এ কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতা-কর্মীরা পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবও পাবে। কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের কারণে আটকে আছে জেলা পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও। ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্য অঙ্গ সংগঠনগুলোর পুনর্গঠনও থমকে আছে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলকে ঘিরে।
কাউন্সিল প্রচারে ফেসবুক : আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলের প্রচারে এবার ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমগুলোকে কাজে লাগাবে বিএনপি। দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আগামী ১৯ মার্চ জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে গঠিত প্রচার ও ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রচারের অন্যান্য মাধ্যমের সঙ্গে এবার ফেসবুক, ইন্টারনেটসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হবে।’শিমুল, আমাদের সময়.কম